• ঢাকা
  • সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৭ এএম


সবাইকেই ধোঁকা দিয়েছেন ইউনূস?

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৬ মে ২০২৬ ৫:১২ পিএম

দীর্ঘদিন ধরে বলা হয়—কিছু মানুষকে কিছু সময়ের জন্য বিভ্রান্ত করা যায়, কিন্তু সবাইকে চিরকাল সত্য থেকে দূরে রাখা যায় না। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ যেন সেই বাস্তবতাকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত দেড় বছরে দেশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কী করেছেন, তা নিয়ে এখন নানা প্রশ্ন উঠছে। দেশ বদলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও, সমালোচকদের মতে তিনি কেবল নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন, বরং দেশের স্বার্থকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছেন। শুধু তাই নয়, যারা তাকে সামনে নিয়ে এসেছিলেন, তাদের প্রত্যাশাও নাকি ভেঙে দিয়েছেন তিনি।

ইউনূস সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ চুক্তি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তার দাবি, এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে কার্যত অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। পুরো প্রক্রিয়ায় মূলত যুক্ত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। তিনি আরও বলেন, কোনো বিশেষ চাপ না থাকলে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেওয়াই যৌক্তিক হতো।

এই বক্তব্যের পরও ড. ইউনূসের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা আসেনি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া কি উপেক্ষা করা হয়েছিল? এর আগে আসিফ নজরুল ও ফরিদা আখতারও একই চুক্তি নিয়ে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। সব মিলিয়ে সমালোচকদের অভিযোগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণে একক কর্তৃত্বই ছিল ইউনূস প্রশাসনের বৈশিষ্ট্য।

তবে একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে সাবেক উপদেষ্টাদের ভূমিকাও নিয়ে। যদি তারা তখনই প্রকাশ্যে আপত্তি তুলতেন, তাহলে হয়তো জনগণ তাদের অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে দেখত। কিন্তু ক্ষমতার ভেতরে থেকে নীরব থাকার পর এখন দায় এড়ানোর চেষ্টা অনেকের কাছে দ্বিচারিতা বলেই মনে হচ্ছে।

স্বাস্থ্যখাতেও অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা সামনে এসেছে। ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানান, টিকা সংকট নিয়ে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। টিকা সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের কারণেই সময়মতো টিকা দেশে পৌঁছায়নি বলে সংস্থাটি মনে করে।

জুলাই আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর ড. ইউনূস বলেছিলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরাই তার শক্তি। কিন্তু সমালোচকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের রাজনীতির মাঠে ব্যবহার করা হয়েছে, অথচ তাদের শিক্ষাজীবনে ফেরানোর উদ্যোগ যথেষ্ট ছিল না। আন্দোলনের অনেক তরুণ নেতার ভাবমূর্তিও সময়ের সঙ্গে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

নির্বাচন প্রসঙ্গেও বিতর্ক কম নয়। অনেকে মনে করেন, ইউনূস শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে নির্বাচন দিতে বাধ্য হন। কিন্তু সেই নির্বাচনের আগে দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের অবস্থা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে নতুন সরকারকে দায়িত্ব নিতে হয়েছে এক জটিল ও অস্থির পরিস্থিতিতে।

সমালোচকদের দাবি, এই সময়ের মধ্যে ড. ইউনূস নিজের আইনি ও ব্যক্তিগত সুবিধা নিশ্চিত করতেই বেশি মনোযোগী ছিলেন। মামলা প্রত্যাহার, কর সুবিধা এবং বিভিন্ন খাতে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

সব মিলিয়ে বিরোধীদের ভাষ্য—দেশের পরিবর্তনের যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, বাস্তবে তা পরিণত হয়েছে হতাশা, বিভ্রান্তি ও বিতর্কের এক দীর্ঘ অধ্যায়ে।