• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১২ এএম


এক দোয়ায় হেদায়াত, সুস্থতা ও বরকত লাভের প্রার্থনা, জেনে নিন এর ফজিলত

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ৭:৩৫ এএম

এক দোয়ায় হেদায়াত, সুস্থতা ও বরকত লাভের প্রার্থনা, জেনে নিন এর ফজিলতমানবজীবনের প্রকৃত সাফল্য কেবল জাগতিক চাওয়া-পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আত্মিক উন্নয়ন, নৈতিক জীবনযাপন এবং পরকালের প্রস্তুতির সমন্বয়েই গড়ে ওঠে একটি পরিপূর্ণ জীবন। মানুষ জীবনে নানা ধরনের কল্যাণ কামনা করে। কেউ সঠিক পথের সন্ধান চায়, কেউ সুস্থতা ও নিরাপত্তা, আবার কেউ রিজিক, সম্পদে বরকত এবং পরিবারে শান্তি প্রত্যাশা করে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর সাহায্য ও রহমত লাভ করাও মুমিনের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা।ইসলামে দোয়া মুমিনের জন্য আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন তুলে ধরার অন্যতম মাধ্যম। হাদিসে বর্ণিত একটি দোয়ায় হেদায়াত, সুস্থতা, আল্লাহর অভিভাবকত্ব, প্রাপ্ত নিয়ামতে বরকত এবং তাকদিরের অনিষ্ট থেকে সুরক্ষা চাওয়া হয়েছে। দোয়াটিতে একজন বান্দা তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মহান আল্লাহর কাছে সমর্পণ করে তাঁর সাহায্য ও অনুগ্রহ কামনা করেন।দোয়াটি হলো—اللهمَّ اهدِنا فيمَن هدَيت، وعافِنا فيمَن عافيت، وتولَّنا فيمَن تولَّيت، وباركْ لنا فيما أعطيت، وقِنا شرَّ ما قضيت، إنك تَقضي ولا يُقضى عليكَ، إنه لا يَذِلُّ مَن والَيت، ولا يَعزُّ مَن عاديت، تباركت ربَّنا وتعالَيتবাংলা উচ্চারণ:আল্লাহুম্মাহদিনা ফীম্যান হাদাইত, ওয়া ‘আফিনা ফীম্যান ‘আফাইত, ওয়া তাওয়াল্লানা ফীম্যান তাওয়াল্লাইত, ওয়া বারিক লানা ফীমা আ‘তাইত, ওয়া কিনা শাররা মা কাদাইত। ইন্নাকা তাকদী ওয়া লা ইউকদা ‘আলাইকা। ইন্নাহু লা ইয়াযিল্লু মান ওয়ালাইত, ওয়া লা ইয়া‘ইয্যু মান ‘আদাইত। তাবারাকতা রাব্বানা ওয়া তা‘আলাইত।বাংলা অর্থ:‘হে আল্লাহ! আপনি যাদের হেদায়াত দিয়েছেন, তাদের অন্তর্ভুক্ত করে আমাদেরও হেদায়াত দিন। আপনি যাদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা দিয়েছেন, তাদের অন্তর্ভুক্ত করে আমাদেরও নিরাপত্তা ও সুস্থতা দিন। আপনি যাদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছেন, তাদের অন্তর্ভুক্ত করে আমাদেরও অভিভাবকত্ব গ্রহণ করুন।আপনি আমাদের যা দিয়েছেন, তাতে আমাদের জন্য বরকত দান করুন। আপনি যে ফয়সালা করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে আমাদের রক্ষা করুন। নিশ্চয়ই আপনিই ফয়সালা করেন; আপনার বিরুদ্ধে কেউ ফয়সালা করতে পারে না। আপনি যার অভিভাবক হন, সে কখনো অপমানিত হয় না; আর আপনি যার বিরোধিতা করেন, সে কখনো সম্মানিত হতে পারে না। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি বরকতময় ও সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী।’হাদিসের সূত্র: সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৪২৫; সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৪৬৪; সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ১৭৪৬।### দোয়াটির তাৎপর্য ও শিক্ষাএই দোয়ায় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া হয়েছে। প্রথমত, সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার প্রার্থনা করা হয়েছে, যাতে মানুষ সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে পারে। দ্বিতীয়ত, সুস্থতা ও নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে, যা শান্তিপূর্ণ জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এ ছাড়া আল্লাহর অভিভাবকত্ব ও সাহায্য কামনা করা হয়েছে। জীবনে পাওয়া নিয়ামতগুলোতে বরকত লাভের প্রার্থনার পাশাপাশি আল্লাহর সিদ্ধান্তের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে। দোয়াটির শেষাংশে আল্লাহর সর্বময় ক্ষমতা ও মর্যাদার কথা স্বীকার করা হয়েছে।দোয়াটির শিক্ষা হলো, মানুষ নিজের চেষ্টা ও সাধনার পাশাপাশি মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করবে। জীবনে কী পাওয়া গেল, কতটুকু সম্পদ অর্জিত হলো কিংবা কতটা সফলতা এল—শুধু এসব দিয়ে প্রকৃত কল্যাণের পরিমাপ হয় না। বরং প্রাপ্ত নিয়ামতে বরকত, সঠিক পথে চলা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।জাগতিক জীবনে সফলতা অর্জনের জন্য দোয়ার পাশাপাশি সৎকাজ, আত্মসংযম, দায়িত্বশীলতা ও নৈতিকতার চর্চা প্রয়োজন। নিয়মিত ইবাদত, মানুষের অধিকার রক্ষা এবং হালাল পথে জীবন পরিচালনার মাধ্যমে একজন মানুষ তার জীবনকে সুন্দর করে তুলতে পারে।তাই দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনায় হাদিসে বর্ণিত এই দোয়াটি অর্থ বুঝে পড়া এবং এর শিক্ষা জীবনে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা উচিত। তবে দোয়া পড়লেই মানুষের প্রতিটি জাগতিক ইচ্ছা অবধারিতভাবে পূরণ হবে—এমন নিশ্চয়তা ইসলামে দেওয়া হয়নি। একজন মুমিন আল্লাহর রহমতের আশা রাখেন এবং তাঁর সিদ্ধান্তের ওপর ভরসা করেন।

/বিএসএস