• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১১ এএম


পাঁচ দশকের ইমামতি শেষে ফুলসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে বিদায় পেলেন ৯৫ বছরের ইমাম!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৭ জুলাই ২০২৬ ৮:৪৮ পিএম

দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে নামাজে ইমামতি, জুমার খুতবা, দ্বীনি শিক্ষা ও সামাজিক নেতৃত্ব দিয়ে এলাকার মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন মাওলানা শামসুল হক মিয়াজী। বয়সের ভারে এবার স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে অবসর নিলেন তিনি। বিদায়ের মুহূর্তে প্রিয় এই ইমামকে ফুল দিয়ে সাজানো ঘোড়ার গাড়িতে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে ব্যতিক্রমী সম্মান জানায় এলাকাবাসী। আবেগঘন এ আয়োজনে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন অনেকেই।

৯৫ বছর বয়সী মাওলানা শামসুল হক মিয়াজী ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের মধ্যম শিলুয়া চৌধুরী বাড়ি রৌশআরা বেগম চৌধুরানী জামে মসজিদে ১৯৭৬ সাল থেকে টানা ৫০ বছর ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বার্ধক্যজনিত কারণে স্বেচ্ছায় অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও এলাকাবাসী তাঁর সম্মানে বিশেষ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মাওলানা শামসুল হক মিয়াজীর বাড়ি উপজেলার মধ্যম শিলুয়া গ্রামে। তিনি মরহুম এবাদুল্লাহ মিয়াজী মোল্লার ছেলে। পারিবারিকভাবেও এই মসজিদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর বাবা এবাদুল্লাহ মিয়াজী ৮১ বছর এবং দাদা হামিদ উল্যাহ মিয়াজী ৬০ বছর একই মসজিদে ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

জুমার নামাজ শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে ফুলসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে করে তাঁকে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়িটির পেছনে ছিল শতাধিক মোটরসাইকেলের বহর। পুরো পথজুড়ে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে নারী-পুরুষ, শিশু ও প্রবীণরা সালাম, শুভেচ্ছা ও দোয়ার মাধ্যমে প্রিয় ইমামকে বিদায় জানান। এ সময় অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

অনুষ্ঠানে তাঁর দীর্ঘদিনের দ্বীনি খেদমতের স্বীকৃতিস্বরূপ নগদ তিন লাখ টাকা এবং বিভিন্ন উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি আগামী এক বছরের বেতন, আজীবন পেনশন এবং আমৃত্যু চিকিৎসা ব্যয় বহনের ঘোষণা দেয় চৌধুরী বাড়ি।

চৌধুরী বাড়ির বাসিন্দা রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী আলমগীর এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামরুল আহসান চৌধুরী বলেন, মাওলানা শামসুল হক মিয়াজী শুধু একজন ইমাম নন, তিনি ছিলেন পুরো এলাকার অভিভাবক। পাঁচ দশক ধরে তিনি ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই এই সম্মানজনক বিদায়ের আয়োজন করা হয়েছে।

বিদায়ের আগে আবেগঘন কণ্ঠে মাওলানা শামসুল হক মিয়াজী বলেন, জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময় এই মসজিদ ও এলাকার মানুষের সঙ্গে কেটেছে। সারা জীবন আল্লাহর দ্বীনের খেদমত করার চেষ্টা করেছি। আমার বাবা ও দাদাও এই মসজিদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাবার নির্দেশেই এক মসজিদে সারাজীবন দায়িত্ব পালন করেছি। দায়িত্বের কারণে নিজের অনেক শখ-আহ্লাদ ত্যাগ করেছি। আজ বিদায়ের মুহূর্তে মানুষের এত ভালোবাসা ও সম্মান পেয়ে মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।

/এএসএফ