• ঢাকা
  • শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০১:৪৯ এএম


অভিযুক্তের ‘চ্যাটজিপিটি’ অনুসন্ধানে নতুন রহস্য

চ্যাটজিপিটির কাছে জানতে চেয়েছিলেন লা’শ গু’মের উপায়

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১:৪১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র-এর ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি হত্যার কয়েকদিন আগে ‘চ্যাটজিপিটির কাছে মরদেহ গোপন করার উপায় সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন।

মামলার অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়েহ (২৬)-এর বিরুদ্ধে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা-এর দুই শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টিকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তবে বৃষ্টির দেহ এখনও শনাক্ত করা যায়নি।

প্রসিকিউটরদের তথ্যমতে, হত্যার তিন দিন আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি জানতে চেয়েছিলেন, কাউকে আবর্জনার ব্যাগে ভরে ডাম্পস্টারে ফেললে কী ঘটে। সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও তিনি পুনরায় প্রশ্ন করেন—এটি কীভাবে ধরা পড়তে পারে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ঘটনার পরদিন অভিযুক্তকে একটি ডাম্পস্টারে বাক্স ফেলতে দেখা যায়। পরে সেখান থেকে ভুক্তভোগী লিমনের পরিচয়পত্র ও ক্রেডিট কার্ড উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত টি-শার্ট ও অন্যান্য আলামতে ডিএনএ পরীক্ষায় ভুক্তভোগীদের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তদন্তকারীরা জানান, লিমনের মরদেহ একটি ভারী আবর্জনার ব্যাগে পাওয়া যায় এবং ময়নাতদন্তে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। অন্যদিকে, বৃষ্টির কোনো জীবিত থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে তার মরদেহও গোপন করা হয়েছে।

প্রসিকিউটরদের দাবি, ঘটনার আগে অভিযুক্ত আবর্জনার ব্যাগ, জীবাণুনাশক সামগ্রী ও এয়ার ফ্রেশনার কিনেছিলেন এবং তার অ্যাপার্টমেন্টে রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ভুক্তভোগীদের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করলেও, পরে মোবাইল লোকেশন ডেটার মুখে বয়ান পরিবর্তন করেন। তদন্তে আরও জানা যায়, ঘটনার সময় তিনি হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকায় অবস্থান করেছিলেন, যেখানে পরবর্তীতে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরে সংক্ষিপ্ত অবরোধের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা, হামলা, অবৈধ আটকে রাখা, মরদেহ গোপন করা এবং আলামত নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি জামিন ছাড়াই কারাগারে রয়েছেন।

নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবার ইসলামি বিধান অনুযায়ী দাফনের দাবি জানিয়েছেন এবং তাদের স্মরণে একটি স্মারক নির্মাণের আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।