কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সংগঠনটির দাবি, হামলায় অন্তত ২০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। ছাত্রশক্তির অভিযোগ, বিএনপির বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এ হামলায় জড়িত।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ফুলবাড়ী উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন জেলা যুবশক্তির সিনিয়র সেক্রেটারি জেনারেল তাওহীদ হাসান, ফুলবাড়ী উপজেলার সিনিয়র সদস্যসচিব রাজু, জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক জাহিদ হাসান, জেলা আহ্বায়ক সাদিকুর রহমান এবং নাগেশ্বরী উপজেলা যুবশক্তির সভাপতি রবিউল ইসলাম।
জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, হবিগঞ্জে এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ফুলবাড়ী শহরের প্রধান সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্র হাতে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এসে হামলা চালান।
ফুলবাড়ী উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক নাজমুল ফেরদৌস বলেন, হবিগঞ্জে এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ফুলবাড়ীতে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। কর্মসূচি চলাকালে বিএনপির নেতা-কর্মীরা দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। এতে ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি ও এনসিপির অনেক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির কুড়িগ্রাম জেলা কমিটির আহ্বায়ক মো. মুকুল মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘হবিগঞ্জ ও ফুলবাড়ীতে আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আজ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল। ওই কর্মসূচিতে বিএনপি ও দলটির অঙ্গসংগঠনের দুই শতাধিক লোকজন হামলা চালিয়ে আমাদের নেতা-কর্মীদের আহত করেছে। আমরা প্রশাসনকে এই হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
তবে স্থানীয় বিএনপির পক্ষ থেকে এ ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মান্নান মুকুল দাবি করেন, ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রলীগের কর্মীরা অংশ নিয়েছিলেন।
মান্নান মুকুল জানান, ছাত্রশক্তির কর্মসূচির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মমিনুল নামে ছাত্রদলের এক কর্মী এনসিপির কার্যালয়ের সামনে হামলার শিকার হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের সঙ্গে এনসিপির নেতা-কর্মীদের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। বিষয়টি সমাধান করতে জেলা নেতারা ফুলবাড়ীতে আসবেন বলেও জানান তিনি।
আজকের ঘটনার সময় বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত থাকলেও বিএনপির কেউ সেখানে ছিলেন না বলে দাবি করেন মান্নান মুকুল।
এদিকে ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ মিছিলে হামলার বিষয়ে জানতে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি।
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম প্রথম আলোকে বলেন, এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে হঠাৎ করে বিএনপির নেতা-কর্মীরা এসে হামলা চালান। ঘটনাস্থলে পুলিশ ছিল। কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁরা হামলা চালিয়ে চলে যান।
ওসি বলেন, ‘এ বিষয়ে এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’