• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৫ এএম


গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে সরকার পাঁচ বছর টিকবে না: নাহিদ ইসলাম

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৫ জুলাই ২০২৬ ১১:৫৩ পিএম

জুলাই বিপ্লবের সংস্কার পরিকল্পনা এবং গণভোটে দেওয়া জনগণের রায় বাস্তবায়ন না করলে বর্তমান সরকার আগামী পাঁচ বছরের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারবে না বলে সতর্ক করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, তারেক রহমানকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তিনি কি নির্বাচিত হয়ে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে চান, নাকি জনগণের রায় উপেক্ষা করার কারণে শেখ হাসিনাসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যাদের করুণ পরিণতি হয়েছে, সেই পরিণতি বরণ করতে চান।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণহত্যায় জড়িত শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচার এবং গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে সিলেট বিভাগীয় এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

আন্তর্জাতিক আন্দোলনের সঙ্গে জুলাই বিপ্লবের যোগসূত্র

বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট এবং তরুণদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণদের জেগে ওঠা, অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে রাজপথে নামা জুলাই বিপ্লবের ধারাবাহিকতারই অংশ। বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে এবং জুলাই বিপ্লবীদের পক্ষ থেকে ভারতের আন্দোলনরত ছাত্র-তরুণদের প্রতিও তিনি শুভেচ্ছা ও সাধুবাদ জানান।

তিনি বলেন, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তরুণদের প্রতিবাদ বিশ্বব্যাপী অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার একটি ধারাবাহিকতা। কিন্তু যখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তরুণদের দাবি ও গণআকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন বাংলাদেশের নতুন সরকার উল্টো পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

‘৭০ শতাংশ জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করা হচ্ছে’

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের পর গঠিত নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল তারা গণরায় ও ছাত্র-তরুণদের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে। কিন্তু ক্ষমতায় এসেই সরকার জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করতে শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষ্য, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কার ও জুলাই সনদের পক্ষে মত দিলেও সেই গণরায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বিএনপিরও সমালোচনা

বক্তব্যে বিএনপিরও সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, দলটি নিজেদের ভেতরে কোনো সংস্কার আনেনি এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ন্যূনতম ঐকমত্যও মেনে নেয়নি।

তিনি বলেন, যদি বিএনপি জুলাই বিপ্লব, ছাত্র-তরুণদের আন্দোলন এবং দেশের ১ হাজার ৪০০ মানুষের আত্মত্যাগ ভুলে যায়, তাহলে তার পরিণতি তারেক রহমানের সরকারেরই ভোগ করতে হবে।

সংবিধান সংস্কার বনাম সংশোধন

সংবিধান নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, সংস্কার ও সংশোধন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরির প্রয়োজন ছিল না। তার দাবি, ঐকমত্য কমিশনেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, শুধুমাত্র সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন কিংবা রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার সম্ভব নয়। এজন্য সংস্কার পরিষদ অথবা গণপরিষদ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি একসময় সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও গণভোটের পক্ষে সম্মতি দিলেও নির্বাচনের পর তারা সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। বিএনপির ২১ দফায় সংবিধান সংস্কার কমিশনের কথা থাকলেও এখন তারা শুধু সংশোধনের কথা বলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষায়, বিএনপির সমর্থিত কিছু বুদ্ধিজীবীও দেশে সংস্কারের প্রয়োজন নেই, শুধু সংশোধনই যথেষ্ট—এমন প্রচার চালাচ্ছেন। অথচ দেশের মানুষ সংস্কারের জন্য জীবন দিয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছর ধরে বিএনপি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণকে প্রতারিত করেছে।

অর্থনীতি ও নির্বাচন কমিশন নিয়েও সমালোচনা

অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, রাজধানীতে গ্যাস সংকট, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও এলপিজির দাম বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ চাপে রয়েছে। একই সঙ্গে বাজেটের মাধ্যমে মধ্যবিত্তের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় সরকার আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও যথাযথভাবে পাচ্ছে না। ফলে বিচার ও সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে না নিলে জনগণের মধ্যে যে নতুন আস্থা তৈরি হয়েছিল, তা বর্তমান সরকার ধরে রাখতে পারবে না।

নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করছে। তার মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের আগে নির্বাচন কমিশনের সংস্কার ও পুনর্গঠন করতে হবে। অন্যথায় বর্তমান নির্বাচন কমিশনারদের পদত্যাগ করা উচিত।

সমাবেশের শেষ দিকে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে বর্তমান সরকারকে আর সমর্থন দেওয়া সম্ভব হবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জুলাই বিপ্লবে যেমন সিলেটের মানুষ গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে রক্ত দিয়েছেন, তেমনি ভবিষ্যতেও সংস্কার ও গণরায়ের পক্ষে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, সংস্কার ও সুশাসনের পক্ষে ১১ দলীয় ঐক্য ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধ থাকবে।

/এসএন