• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২৮ এএম


‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন আদেশের গণভোট ছিল অবৈধ: সালাহউদ্দিন আহমেদ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৯ জুলাই ২০২৬ ১০:৫২ পিএম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটটি সাংবিধানিক ছিল না। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়াই ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর অধীনে একটি অবৈধ ও ছলচাতুরিপূর্ণ গণভোট আয়োজন করা হয়েছিল।

রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক নাসির উদ্দিন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই গণভোটে চারটি প্রশ্নের বিপরীতে কেবল একটি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ উত্তর দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল, যা গ্রহণযোগ্য ছিল না। তাঁর মতে, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর পক্ষে জনগণের মতামত জানতে চাইলে একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নে গণভোট হওয়া উচিত ছিল।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত কয়েকটি কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কিছু কমিশন নির্দিষ্ট কাজের পরিবর্তে কেবল কিছু ব্যক্তির কর্মসংস্থানের জন্য গঠন করা হয়েছিল। গুমের শিকার ব্যক্তি বা তাদের পরিবারের জন্য কোথায় প্রতিকার মিলবে, সেটিও স্পষ্ট ছিল না।

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং দেশের সামাজিক-সাংস্কৃতিক বাস্তবতার সমন্বয়ে আগামী সংসদ অধিবেশনে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘গুম প্রতিরোধ আইন’ আনা হবে। এতে গুমের সংজ্ঞা, অপরাধের ধরন, শাস্তি এবং বিচারিক এখতিয়ার স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন এবং মানবাধিকার কমিশনের আইনও যুগোপযোগী করা হবে।

বক্তব্যের শুরুতেই মব জাস্টিসের সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “মব কোনোদিন জাস্টিস হতে পারে না। এটি একটি অপসংস্কৃতি।” তিনি বলেন, প্রশাসন ও বিচার বিভাগের কার্যকর ভূমিকার মাধ্যমেই দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বিচার বিভাগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতীতে রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত সমাজে অবিচারের জন্ম দিয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত সংস্কার প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা প্রায় ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে অল্প কয়েকটি ছাড়া বাকি অধিকাংশই বর্তমান সরকার আইনে পরিণত করেছে। তবে স্থায়ী রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কারের জন্য সাংবিধানিক সংশোধন প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সংবিধান একটি পরিবর্তনশীল দলিল। আদালতের রায়ের মাধ্যমে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান ফিরে এসেছে। তবে প্রস্তাবনা বা মৌলিক অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের জন্য রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে যে গণভোটের বিধান রয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারির গণভোট সেটি ছিল না।

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং আবু সাঈদসহ অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্টের বিজয় এসেছে। ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধ এবং গণতান্ত্রিক ও সংসদীয় রাজনীতি শক্তিশালী করতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।

/এএসএফ