• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৪ এএম


“আমার তো ইচ্ছে করে সিজদা থেকে মাথা না তুলি। আমার আল্লাহ আমাকে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে এসেছেন। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছেন।”

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৮ জুলাই ২০২৬ ১১:০২ পিএম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদের ছেলে আলী আহমাদ মাবরুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান লুৎফুজ্জামান বাবরকে নিয়ে একটি আবেগঘন স্মৃতিচারণমূলক পোস্ট দিয়েছেন।

পোস্টে তিনি সংসদ ভবনের মসজিদে বাবরের সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা এবং তার দীর্ঘ সময় সিজদায় থাকার দৃশ্যের বর্ণনা দেন। মাবরুরের ভাষ্য অনুযায়ী, সংসদের একটি অধিবেশনের সময় মাগরিবের নামাজ শেষে তিনি দেখেন, লুৎফুজ্জামান বাবর দীর্ঘ সময় ধরে নফল নামাজে সিজদায় রয়েছেন। পরে নামাজ শেষ হলে তিনি বাবরের সঙ্গে কথা বলেন।

ফেসবুক পোস্টে মাবরুর জানান, তিনি বাবরকে নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন যে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তার বাবা আলী আহসান মুজাহিদ ও লুৎফুজ্জামান বাবর সহ-আসামি ছিলেন। সে সময় আদালতে যাতায়াতের সময় তাদের মধ্যে একাধিকবার সাক্ষাৎ হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মাবরুরের দাবি, পরিচয় জানার পর বাবর তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং তার পরিবারের খোঁজখবর নেন। এরপর বাবরের দীর্ঘ সিজদার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যদি পারতাম সারা দিন সিজদা দিয়ে থাকতাম। আমার তো ইচ্ছে করে সিজদা থেকে মাথা না তুলি। আমার আল্লাহ আমাকে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে এসেছেন। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছেন। অপমানের জীবন থেকে আজকের জায়গায় এনেছেন। ১৭ বছর কারাগার আর কনডেম সেলের জীবন থেকে আবার সংসদে এনেছেন। আমি যদি সারাদিন সিজদা দিয়ে থাকি, তাহলেও তো আল্লাহর শুকরিয়ার কিছুই আদায় করা হবে না।”

আলী আহমাদ মাবরুর লিখেছেন, বাবরের দীর্ঘ সিজদা, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভঙ্গি এবং তার বিনয় তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। তার মতে, অনেক মানুষই কঠিন পরিস্থিতি থেকে ভালো অবস্থায় ফিরে এলেও সবাই এভাবে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারেন না।

পোস্টের শেষ অংশে মাবরুর উল্লেখ করেন, মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় অনেককে বাবরের সঙ্গে ছবি তুলতে দেখেন। পরে তিনিও একটি স্মৃতি হিসেবে বাবরের সঙ্গে ছবি তোলেন। তার দাবি, বিদায়ের সময় বাবর তাকে ও তার পরিবারকে দোয়া করে ভালো থাকার শুভকামনা জানান।

উল্লেখ্য, প্রতিবেদনটি আলী আহমাদ মাবরুরের ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে বর্ণিত বক্তব্য ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। পোস্টে উদ্ধৃত মন্তব্যগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

/এএসএফ