• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৪ এএম


‘শেখ মুজিব পাকিস্তান ভাঙতে চাননি, তাই স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি’—মেজর (অব.) হাফিজ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১১ জুলাই ২০২৬ ৭:৫৮ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভাঙার কোনো ইচ্ছা বা বিচ্ছিন্নতাবাদী হওয়ার বাসনা শেখ মুজিবুর রহমানের ছিল না। সে কারণেই ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর ‘ক্র্যাকডাউন’-এর আগে তাজউদ্দিন আহমেদের অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।

শনিবার (১১ জুলাই) ‘রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)’ আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন বলেন, তাজউদ্দিন আহমেদ শেখ মুজিবুর রহমানকে জানিয়েছিলেন যে পাকিস্তানি বাহিনী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং মানুষ স্বাধীনতা চায়। কিন্তু শেখ মুজিব তখন বলেছিলেন, তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদী হতে পারেন না এবং পাকিস্তান ভাঙার ক্ষেত্রে নিজের কোনো ভূমিকা থাকুক, সেটিও তিনি চান না। তাই তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার মুখে যখন পুরো জাতি দিশেহারা হয়ে পড়েছিল, তখন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। একই সংকটময় সময়ে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করেছিল। তার ভাষায়, এটিই প্রকৃত ইতিহাস।

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন জোর দিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না; এটি ছিল সমগ্র জনগণের যুদ্ধ। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর ক্ষমতায় এসে একটি বিশেষ গোষ্ঠী ইতিহাস বিকৃত করে শুধু ৭ মার্চের ভাষণের ওপর ভিত্তি করে স্বাধীনতার কৃতিত্ব নিজেদের করে নেওয়ার চেষ্টা করেছে, যা তার মতে অন্যায়।

তিনি বলেন, রাজনীতিবিদরা অনেক সময় অন্যের কৃতিত্ব নিজেদের বলে দাবি করেন এবং নিজেদের দলের নেতার বাইরে অন্য কাউকে স্বীকৃতি দিতে চান না।

আলোচনায় তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের গৌরবময় ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সে সময় পূর্ব পাকিস্তানে রেজিমেন্টটির মাত্র পাঁচটি ব্যাটালিয়ন ছিল। দেশের বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে তারা কোনো পূর্বপরিকল্পনা বা পারস্পরিক যোগাযোগ ছাড়াই পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে বিদ্রোহ করে এবং জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায়। তার মতে, এই প্রতিরোধই পরবর্তী নয় মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি তৈরি করে।

সেনাবাহিনীতে যোগদানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন জানান, মূলত ফুটবলের প্রতি আগ্রহ থেকেই তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। পরে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের উৎসাহে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তিনি স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করেন, যিনি তাকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দিতে উৎসাহিত করেছিলেন।

এ ছাড়া ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রধান সংগঠক মেজর আব্দুল গনি এবং ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে রেজিমেন্টের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুর রহমান মজুমদারের অবদানের কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষদিকে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন সেনাবাহিনীতে অফিসার ও সৈনিকদের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহ্যবাহী বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাহসী প্রতিরোধই দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের ভিত্তি রচনা করেছিল।

/এসএন