• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম


‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে রাজপথে আন্দোলনের ঘোষণা, সরকারকে হুঁশিয়ারি বিরোধীদের

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ২:১৩ পিএম

‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে সারা দেশে আন্দোলন ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এই আন্দোলন ধাপে ধাপে আরও শক্তিশালী করে সফলতার দিকে নিতে হবে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ১১-দলীয় জোট।

শফিকুর রহমান বলেন, রাজপথের আন্দোলন সফল করেই বিরোধী দল ঘরে ফিরবে এবং এই আন্দোলনে দেশবাসীর সমর্থন প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার ও রাজনৈতিক কাঠামো ‘জুলাই আন্দোলনের’ ফল এবং এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে টিকে থাকা সম্ভব নয়।

সংসদে প্রভাব বিস্তারের প্রসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত করে বলেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কোথাও থেকে নিয়ন্ত্রণ আসছে, যা দেশের অস্থিরতার কারণ। তিনি আরও বলেন, সংসদে বিরোধীদের কণ্ঠ দমিয়ে রাখার চেষ্টা হলেও তারা তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি।

বিরোধীদলীয় নেতা জানান, সংসদের সুযোগ-সুবিধা ভোগের জন্য নয়, বরং জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তারা সংসদে আছেন। প্রয়োজনে সংসদ থেকেও বেরিয়ে আসার ইঙ্গিত দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি পরিবারতন্ত্র ও স্বৈরাচারী রাজনীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

ব্যাংক খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে শফিকুর রহমান বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করা হলে এর ভয়াবহ পরিণতি হবে। জনগণকে এ বিষয়ে সচেতন হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকার গণভোটের রায়কে অস্বীকার করছে। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে এবং এ জন্য সরকারকে দায়ী করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে মৌলিক সংস্কার সম্ভব নয়; এ জন্য একটি আলাদা ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন প্রয়োজন।

সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ক্ষমতায় এসে জনগণকে অবমূল্যায়নের প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।

তিনি আরও দাবি করেন, গণভোট উপেক্ষা করার নজির বিশ্বে নেই এবং এ ধরনের পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর হতে পারে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সরকারের নীতি ও কার্যক্রমের সমালোচনা করেন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানান।