• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২১ পিএম


আসছে সুসংবাদ, শীঘ্রই জাতীয় গ্রেডে যুক্ত হচ্ছে ১২০০ মেগাওয়াট!

আপডেট টাইম: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১২:০৮ এএম

নানা জটিলতা ও বিলম্বের পর অবশেষে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রমের জন্য লাইসেন্স অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে চলতি এপ্রিলের শেষ নাগাদ কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, পূর্বে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তাজনিত ইস্যু থাকায় অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তবে সেসব বিষয় সমাধানের পর এখন পরিস্থিতি সন্তোষজনক হওয়ায় জ্বালানি লোডিংয়ের বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য এবং জ্বালানি লোডিংয়ের সময় নিজে উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রম তদারকি করবেন। কোনো ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা নেই বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এদিকে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জানান, অগ্নিনিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই ধাপে ধাপে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।

এর আগে লাইসেন্স জটিলতার কারণে চলতি মাসের ৭ এপ্রিল নির্ধারিত জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে এ লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক হওয়ায় অনুমোদন ছাড়া কার্যক্রম শুরু করা যায়নি।

রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রথম ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ইউনিট থেকে আরও ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে রূপপুর প্রকল্প চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ খাতে গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প উৎস হিসেবে কাজ করবে।