• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৫ এএম


কালবৈশাখীর তাণ্ডব: বরিশালে দুই স্কুলে বজ্রপাত, শিক্ষকসহ আহত ১৫

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১১:১০ এএম

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের সময় পৃথক দুইটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বজ্রপাতের ঘটনায় এক শিক্ষকসহ অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সময় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চরএকরিয়া ইউনিয়নের দাদপুর তেমুহনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস চলাকালে হঠাৎ বিকট শব্দে বজ্রপাত আঘাত হানে। এতে মুহূর্তেই স্কুল ভবনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এসময় ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা ফারুকুল ইসলামসহ আট শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে সপ্তম শ্রেণির জান্নাত বেগম, ফাতেমা বেগম দোলা, আমেনা বেগম ও সুমাইয়া বেগম, অষ্টম শ্রেণির মীম আক্তার এবং নবম শ্রেণির আফরোজ আক্তার ও সুমাইয়া আক্তার।
আহত শিক্ষার্থী দোলা হাসপাতালে শুয়ে জানান, “হঠাৎ বিকট শব্দে পুরো স্কুল কেঁপে ওঠে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমরা কয়েকজন অজ্ঞান হয়ে যাই।”
একই সময়ে উপজেলার আলীমাবাদ ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য বাহাদুর মৃধা জানান, বজ্রপাতের তীব্র শব্দে আতঙ্কিত হয়ে সেখানে আরও আট শিক্ষার্থী আহত হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নিজাম উদ্দিন ফকির বলেন, “বজ্রপাতের শব্দে শিক্ষার্থীরা ভয় পেয়ে যায়। পরে তাদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।”
মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আব্দুল কাদের জানান, দাদপুর স্কুল থেকে আটজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে কেউ গুরুতর আহত হয়নি।
তিনি বলেন, “বজ্রপাতের প্রচণ্ড শব্দে তারা মূলত শকড বা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার পর সবাই এখন শঙ্কামুক্ত।”
এ ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কালবৈশাখী মৌসুমে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি বাড়ছে।