• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২১ এএম


জনগণের পক্ষে বাজেট বলেই বাজারে দাম বাড়েনি’—কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৩ জুন ২০২৬ ১১:২৯ পিএম

বাজেট উপস্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো বাজারে কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যেই বাজেট উপস্থাপনের পর জিনিসপত্রের দাম বাড়ে না, সেটিই জনগণের পক্ষের বাজেট।

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকালে ঢাকা থেকে বিমানে কক্সবাজার যাওয়ার সময় তিনি বিভিন্ন পত্রিকা দেখেছেন। সেখানে প্রায় সব পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, প্রতিবছর বাজেট ঘোষণার পরদিন বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যেত। কিন্তু এবার আল্লাহর রহমতে বাজেট উপস্থাপনের পর কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি।

তিনি বলেন, ‘যেই বাজেট উপস্থাপন করলে জিনিসের দাম বাড়ে না, সেই বাজেট জনগণের পক্ষের বাজেট। এই বাজেটে আমরা বিভিন্ন ওষুধপত্র এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত অনেক বিষয়ের ওপর থেকে কর কমিয়ে এনেছি।’

তারেক রহমান জানান, চলতি বাজেটে কিডনি ডায়ালাইসিসের ওষুধের ওপর থেকে সম্পূর্ণ কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে ডায়ালাইসিস রোগীদের প্রতি সেশনে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হবে। এছাড়া হৃদরোগের বাইপাস সার্জারি ও স্টেন্টিংয়ের ক্ষেত্রে আগে যেখানে প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয় হতো, তা কমে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে নেমে আসবে। একইভাবে চোখের লেন্সের ওপর থেকেও কর প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা বয়স্ক ও অবসরপ্রাপ্ত মানুষের জন্য সহায়ক হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাজেট নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিএনপি সরকারের বাজেটকে গণবিরোধী আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। অথচ সরকার ওষুধপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমিয়েছে, যাতে মানুষ কিছুটা স্বস্তি পায়।

তিনি বলেন, সরকার এই বাজেটে সিগারেট ও মদের ওপর কর বাড়িয়েছে। এ অবস্থায় যারা বাজেটের বিরোধিতা করছে, তারা কি সিগারেট ও মদের ওপর কর বৃদ্ধির প্রতিবাদ করছে—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার ভাষায়, যারা এসব কর বৃদ্ধির বিরোধিতা করে, তারা জনগণের জন্য রাজনীতি করে না।

তারেক রহমান আরও বলেন, নির্বাচনের আগেও কিছু রাজনৈতিক দল জনগণের কাছে বিভিন্ন ধরনের ‘টিকিট’ বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল। এখন তারা আর সে ধরনের কথা বলে না, কারণ সেই ক্ষমতা তাদের ছিল না। জনগণকে বিভ্রান্ত করে ভোট নেওয়াই ছিল তাদের উদ্দেশ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, যারা জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের বিরোধিতা করে, তারা প্রকৃত অর্থে জনগণের স্বার্থের পক্ষে নয়।

চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্নাসহ অন্যান্য নেতারা।

মাতামুহুরী উপজেলা প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সন্ধ্যায় জনসভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে তিনি পেকুয়ায় নতুন পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।

সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইটে কক্সবাজার পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। সফরের শুরুতে তিনি পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করেন।