• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ১০:০২ এএম


সলিমপুরের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সড়ক নির্মাণ শুরু করল সেনাবাহিনী

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৮ জুন ২০২৬ ১১:৩৭ পিএম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার আলোচিত ও দীর্ঘদিনের অপরাধপ্রবণ জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার এবং অপরাধী চক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রাথমিকভাবে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীনস্থ ২৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (ইসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই নির্মাণকাজের উদ্বোধন করে।

কাজের উদ্বোধনের পর জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকার পাহাড়ি অঞ্চলে নির্মাণাধীন সড়কগুলো পরিদর্শন করেন ২৬ ইসিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. কামরুল আল মাসুদ, পিএসসি। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

তিনি জানান, প্রথম ধাপে স্থানীয় ছিন্নমূল এলাকা থেকে আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত একটি টেকসই সড়ক নির্মাণ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে আলীনগর থেকে টেক্সটাইল এলাকা হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং আলীনগর থেকে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) সংলগ্ন চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক পর্যন্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জঙ্গল সলিমপুরের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ সহজ করতে আরও একটি সংযোগ সড়ক তৈরি করা হবে।

প্রকল্পের বাজেট সম্পর্কে তিনি বলেন, এখনো কোনো নির্দিষ্ট বাজেট অনুমোদন হয়নি। তবে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করা হয়েছে। পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় সড়ক নির্মাণে সেনাবাহিনীর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দ্রুততম সময়ে কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে।

স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যু, দখলদার এবং বিভিন্ন অপরাধী চক্রের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। নব্বইয়ের দশকে আলী আক্কাস নামে এক ব্যক্তি সরকারি খাসজমি দখল করে সেখানে বসতি স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ‘ছিন্নমূল পুনর্বাসন’ প্রকল্পের নামে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে প্লট বিক্রির মাধ্যমে পাহাড় কেটে গড়ে তোলা হয় বিশাল অবৈধ বসতি।

সাম্প্রতিক সময়ে এলাকাটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। গত ১৯ জানুয়ারি বিশেষ অভিযানে গিয়ে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাব-৭-এর ডিএডি নায়েব সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। এরপর গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের প্রায় ৪ হাজার সদস্যের সমন্বয়ে বৃহৎ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং সেখানে স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।

তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সর্বশেষ গত ২৪ মে রাতে যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাল্টা প্রতিরোধের মুখে তারা পিছু হটলেও একটি নির্মাণাধীন নিরাপত্তা ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় এবং কয়েকটি সড়ক কেটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পিত চারটি সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হলে জঙ্গল সলিমপুরে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে এবং দুর্গম এলাকার বাসিন্দাদের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হবে। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনাও অনেক বেশি কার্যকর হবে।

/এএসএফ