• ঢাকা
  • রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম


কালবৈশাখীর তা’ণ্ডবে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৫ মে ২০২৬ ৯:২৮ এএম

আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে সাময়িকভাবে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রায় চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) রাত সাড়ে ৮টা থেকে ফেরির পাশাপাশি লঞ্চ চলাচলও বন্ধ রাখা হয়। ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাত ৮টার পর থেকেই পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে পদ্মা নদীর অববাহিকায় দমকা ও ঝড়ো বাতাস শুরু হয়। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঝড়ের তীব্রতা বেড়ে গেলে নিরাপত্তার স্বার্থে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

ফলে ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফেরা যাত্রী এবং বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ঘাট এলাকায় আটকা পড়ে। রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের বাণিজ্য শাখার ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম মো. সালাম হোসেন জানান, প্রায় ৩০টি যাত্রীবাহী বাসসহ অর্ধশতাধিক যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে।

তিনি বলেন, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৫টি ফেরি চলাচল করছে। তবে ঝড় শুরু হলে ফেরিগুলোকে নিরাপদে পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ঘাটের পন্টুনে নোঙর করে রাখা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু হবে।

রোববার দুপুরের পর থেকেই রাজধানী ছেড়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে মানুষের যাত্রা বাড়তে থাকে। বিকেলে দৌলতদিয়া ঘাটে লঞ্চ ও ফেরিতে যাত্রীদের উল্লেখযোগ্য ভিড় দেখা যায়।

এদিকে কোরবানির পশুবাহী গাড়ির চাপও এখনো অব্যাহত রয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানীর গাবতলীসহ বিভিন্ন পশুর হাটের উদ্দেশ্যে ছুটছে শত শত পশুবাহী ট্রাক। দৌলতদিয়া ঘাট হয়ে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে এসব গাড়ি রাজধানীমুখী হচ্ছে।

গত ৩৪ ঘণ্টায় এই ঘাট দিয়ে প্রায় সাড়ে ৮০০ পশুবাহী গাড়ি নদী পারাপার করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিআইডব্লিউটিসি ও ঘাটসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কোরবানির পশুবাহী যানবাহনকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী ফেরির সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে প্রায় ৫৪০টি পশুবাহী ট্রাক নদী পারাপার করেছে। এছাড়া শনিবার রাত ১২টার পর থেকে রোববার দুপুর ২টা পর্যন্ত আরও প্রায় ৩০০টি পশুবাহী গাড়ি পার হয়েছে।

আরিচা লঞ্চ মালিক সমিতির দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার তত্ত্বাবধায়ক নুরুল আনোয়ার মিলন জানান, রোববার দুপুর পর্যন্ত যাত্রীর চাপ কম থাকলেও বিকেল ৩টার পর থেকে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে সরকারি চাকরিজীবীরা ছুটির শুরুতেই গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ছোট-বড় মিলিয়ে ২০টি লঞ্চ সচল রয়েছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে যাত্রী ও পশুবাহী গাড়ি দ্রুত পারাপারের জন্য এই রুটে মোট ১৭টি ফেরি চালুর কথা থাকলেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুটি ফেরি পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানায় মেরামতের জন্য রাখা হয়েছে। ফলে রোববার বিকেল পর্যন্ত ১৫টি ফেরি চলাচল করছিল।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন জানান, শেষ মুহূর্তেও রাজধানীমুখী পশুবাহী গাড়ির চাপ অনেক বেশি। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এই চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।

তিনি আরও জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে শনিবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে ৩১৫টি যাত্রীবাহী বাস, ৭৬৩টি ট্রাক, ৯৪৭টি ছোট গাড়ি এবং ১৩৬টি মোটরসাইকেল পারাপার করেছে। এর মধ্যে পশুবাহী ট্রাক ছিল ৫৪০টি। এছাড়া শনিবার রাত ১২টার পর থেকে রোববার দুপুর ২টা পর্যন্ত আরও প্রায় ২৯৫টি পশুবাহী গাড়ি নদী পার হয়েছে।

/এসএন