• ঢাকা
  • সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৭ এএম


ঈদযাত্রায় আব্দুল্লাহপুরে বাস সংকট ও শিডিউল বিপর্যয়ে চরম ভোগান্তি, বাড়তি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৫ মে ২০২৬ ৯:১৩ এএম

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত বহির্গমন পয়েন্ট আব্দুল্লাহপুরে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। বাস সংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।

রোববার (২৪ মে) দিবাগত রাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এয়ারপোর্ট, আজমপুর, হাউজ বিল্ডিং ও আব্দুল্লাহপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার পাশে শত শত যাত্রী বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে একের পর এক দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যেতে দেখা যায়।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কে ধীরগতিতে যান চলাচল করছে। ফলে দীর্ঘ যানজটে আটকে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

সরেজমিনে আব্দুল্লাহপুর বাস টার্মিনালে দেখা যায়, অন্যান্য দিনের তুলনায় যাত্রীদের উপস্থিতি অনেক বেশি। বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টারে টিকিট সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন যাত্রীরা। কোথাও কোথাও কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে যাত্রীদের।

প্রতিটি কাউন্টারে ঘরমুখো মানুষের চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। যাত্রী ডাকতে হাঁকডাকে পুরো টার্মিনাল এলাকা সরগরম হয়ে ওঠে। কাউন্টারের সামনে পরিবহন এসে দাঁড়াতেই নির্ধারিত বাসে উঠতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন যাত্রীরা।

আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা এবং বিমানবন্দর পর্যন্ত মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে প্রায়ই ধীরগতি ও তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে।

উত্তরবঙ্গগামী আহনাফ পরিবহনের যাত্রী মমিন হোসেন বলেন, “আমার দুইটা টিকিটের জন্য ১৯০০ টাকা নিয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে এই টিকিটের দাম ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা। পাঁচ দিন আগে টিকিট কেটেছি। গাড়ি ছাড়ার কথা ছিল রাত সাড়ে ১০টায়, কিন্তু এখনো গাড়ির কোনো খবর নেই।”

তিনি আরও বলেন, “প্রত্যেকটা গাড়ি এক ঘণ্টা থেকে দেড় ঘণ্টা দেরি করছে। সব কাউন্টারেই বলা হচ্ছে গাড়ি আসতে দেরি হবে। কাউন্টার ম্যানেজমেন্টের লোকজনও সতর্ক না।”

নাটোরগামী একতা পরিবহনের এক যাত্রী অভিযোগ করেন, “টিকিটের জন্য এক হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে এই ভাড়া ৬০০ টাকা। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে গাড়ির অপেক্ষায় আছি, এখনো বাস আসেনি। প্রতি ঈদেই এমন ভোগান্তি পোহাতে হয়।”

তবে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন একতা পরিবহনের ম্যানেজার দুলাল হোসেন। তিনি বলেন, “ঢাকায় যানজট থাকার কারণে কিছুটা দেরি হচ্ছে। আমরা কোনো বাড়তি ভাড়া নিচ্ছি না। তবে অনেকেই খুশি হয়ে ৫০ বা ১০০ টাকা অতিরিক্ত দেন।”

/এসএন