• ঢাকা
  • রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৭ এএম


ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ প্রশিক্ষণ দেবেন বাংলাদেশি সাংবাদিকদের!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯:৫৩ পিএম

বাংলাদেশি সাংবাদিকদের জন্য ভারতের হায়দরাবাদে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে ভারত সরকার। ‘ইন্ডিয়ান টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন’ (আইটেক) স্কিমের আওতায় আগামী ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবর ‘জার্নালিজম অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস’ বিষয়ে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে কর্মসূচিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন উঠেছে।ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হায়দরাবাদের ড. মারি চেন্না রেড্ডি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটে এই প্রশিক্ষণ হবে। এতে অর্থনীতি, অর্থ, বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতের সাংবাদিকদের বিশেষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ, কৌশলগত যোগাযোগ এবং গণমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। (“jagonews24.com” (https://www.jagonews24.com/en/national/news/96350?utm_source=chatgpt.com))প্রশিক্ষণে নির্বাচিত সাংবাদিকদের বিমানভাড়া, কোর্স ফি, আবাসন এবং দৈনন্দিন ভাতাসহ বিভিন্ন ব্যয় ভারত সরকার বহন করবে। ৫ থেকে ১০ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে—এমন সংশ্লিষ্ট খাতের সাংবাদিকরা এতে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিতদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) জমা দিতে হবে। (“jagonews24.com” (https://www.jagonews24.com/en/national/news/96350?utm_source=chatgpt.com))কর্মসূচিতে হায়দরাবাদের হাইটেক সিটি পরিদর্শন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং স্থানীয় দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের সুযোগও রাখা হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদ দেওয়ার কথা রয়েছে। (“banglabazarpatrika.net” (https://www.banglabazarpatrika.net/international/2026-09-23/3ota3iyg5d?utm_source=chatgpt.com))এদিকে ভারতের সাংবাদিক ময়ূখ রঞ্জন ঘোষকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাঁকে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট ও আলোচনাও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে প্রকাশিত আইটেক কোর্সের বিজ্ঞপ্তিতে প্রশিক্ষক হিসেবে ময়ূখ রঞ্জন ঘোষের নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে তাঁকে প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করার দাবিটির স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।কর্মসূচির উদ্দেশ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ ইতিবাচক মন্তব্য করলেও অনেকে এর সম্ভাব্য উদ্দেশ্য ও বিষয়বস্তু নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে ভারতের সরকারি অর্থায়নে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও স্বার্থের বিষয়টি কীভাবে বিবেচনা করা হবে—এ নিয়েও আলোচনা চলছে।এদিকে ভারতের গণমাধ্যম পরিস্থিতি নিয়েও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূচকে নানা তথ্য রয়েছে। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের (আরএসএফ) ২০২৬ সালের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫২তম এবং ভারতের অবস্থান ১৫৭তম। অর্থাৎ ওই সূচকে বাংলাদেশ ভারতের পাঁচ ধাপ ওপরে রয়েছে। তবে দুই দেশই সূচকে ‘ভেরি সিরিয়াস’ শ্রেণিতে রয়েছে। (“rsf.org” (https://rsf.org/en/index?utm_source=chatgpt.com))আরএসএফের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের স্কোর ৩৩.০৫ এবং ভারতের স্কোর ৩১.৯৬। ভারতের ক্ষেত্রে আরএসএফ গণমাধ্যমের ওপর রাজনৈতিক চাপ, মালিকানার ঘনত্ব ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা সংস্থাটি উল্লেখ করেছে। (“rsf.org” (https://rsf.org/en/country/india?utm_source=chatgpt.com)) (“rsf.org” (https://rsf.org/en/country/bangladesh?utm_source=chatgpt.com))তবে আইটেকের এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সঙ্গে যুক্ত করার কোনো প্রমাণ প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি বা নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের দাবি ও আশঙ্কা প্রকাশ পেলেও সেগুলোকে যাচাই করা তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।ভারতের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচিটির ঘোষিত লক্ষ্য বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সাংবাদিকতা ও জনসংযোগ বিষয়ে পেশাগত সক্ষমতা বাড়ানো। আগামী ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবর হায়দরাবাদে অনুষ্ঠেয় এই প্রশিক্ষণে শেষ পর্যন্ত কারা অংশ নেবেন এবং কী ধরনের সেশন পরিচালিত হবে, তা কর্মসূচি শুরু হলে আরও স্পষ্ট হবে।

/বিএসএস