• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৩ এএম


দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে বিতর্ক: বিতর্কে মুখ খুললেন রফিকুল ইসলাম মাদানী

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৭ মে ২০২৬ ৩:৩৭ পিএম

নিজের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছেন মারকাযু শাহাবুদ্দিন আল ইসলামি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম ও ইসলামি বক্তা মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী। ৬ মে সকাল ১০টা ১ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দ্বিতীয় বিয়ে সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেওয়ার পর সেটি ঘিরে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। পরে তিনি পোস্টটি সরিয়ে নেন।

এরপর ৭ মে সকাল ৮টা ৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে ‘কিছু বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের জবাব!’ শিরোনামে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি নিজের দ্বিতীয় বিয়ে, স্ত্রীকে নিয়ে দায়িত্ববোধ, আইএমভির ভূমিকা এবং সমালোচকদের বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দেন।

স্ট্যাটাসের শুরুতে তিনি দাবি করেন, কিছু মানুষ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তার ভাষ্য, অনেকে বলছেন তিনি প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় অন্য এক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক করে পরে চাপে পড়ে বিয়ে করেছেন। আবার কেউ কেউ টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ের অভিযোগও তুলেছেন।

এ বিষয়ে তিনি লেখেন, আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলতে চান, যাকে তিনি বিয়ে করেছেন তাকে বিয়ের দিন দেখার আগ পর্যন্ত কখনও দেখেননি, এমনকি তার সঙ্গে কোনো কথাও হয়নি। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, জীবনে কখনও টিকটকে তার কোনো আইডি ছিল না।

সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হচ্ছে স্ত্রীর গর্ভাবস্থার সময় দ্বিতীয় বিয়ে করার বিষয়টি নিয়ে—এমন মন্তব্য করে মাদানী বলেন, তার মানবিক মূল্যবোধ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, তিনি আইএমভির মাধ্যমে বিয়ে করেছেন। সেখানে যেসব নারী-পুরুষ স্বেচ্ছায় একাধিক বিয়েতে আগ্রহী, তাদের ফরম পূরণ করতে হয়। কয়েক মাস আগেই তার ফরম পূরণ করা হয়েছিল। পরে উপযুক্ততা অনুযায়ী ছেলে-মেয়ের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয় এবং উভয়পক্ষ সম্মত হলে বিয়ে সম্পন্ন হয়।

তার দাবি, প্রথম স্ত্রীকে আগেই তিনি ফরম পূরণের বিষয়টি জানিয়েছিলেন। আইএমভিকে তিনি কেবল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তার জন্য উপযুক্ত মেয়ে পাওয়ার সময়টা স্ত্রীর গর্ভাবস্থার সময়ের সঙ্গে মিলে যায় এবং এ সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে তিনিও দ্বিধা ও মানসিক কষ্টের মধ্যে ছিলেন।

স্ত্রীর প্রতি দায়িত্ব পালনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, তিনি সারাক্ষণ হাসপাতালে স্ত্রীর পাশে ছিলেন। ময়মনসিংহের সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চার দিন অবস্থান করেছেন বলেও উল্লেখ করেন। তার দাবি, সে সময় রাত-দিন ঠিকমতো ঘুম হয়নি, খাওয়াও হয়নি। স্ত্রীর অপারেশনের দিন সারারাত তার শয্যার পাশে বসে ছিলেন বলেও জানান। এমনকি রাত ৩টার দিকে নার্সরা তাকে কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেন বলেও লেখেন তিনি।

এগুলো কেবল গর্ভাবস্থার সময়ের ঘটনা নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আড়াই বছরের দাম্পত্য জীবনে তার স্ত্রী যদি কখনও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে থাকেন, সেটি কেউ প্রমাণ করতে পারলে যে কোনো শাস্তি মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত তিনি।

মাদানী আরও বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি শুনে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন কষ্ট পেয়েছেন, কান্না করেছেন এবং তার ওপর রাগও করেছেন। তবে যারা তার মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাদের তিনি শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানান। তার দাবি, তারা কখনও বলতে পারবেন না যে তিনি স্ত্রীর যত্ন নেননি।

নিজের বাড়ি কিংবা আশপাশের মানুষদের কাছে খোঁজ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, অনেকে তাদের দেখে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী দাম্পত্য জীবনের উদাহরণ বলে মন্তব্য করতেন। স্ত্রীকে সার্বক্ষণিক দেখভালের জন্য কাজের লোক রাখা, গর্ভাবস্থায় রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পা টিপে দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সবকিছু এনে দেওয়ার কথাও স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন তিনি।

সবশেষে তিনি বলেন, এত কিছু করার পরও তার এই “হালাল ও বৈধ” সিদ্ধান্তের কারণে নিজের ভেতরেও একধরনের অপরাধবোধ তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তিনি কেবল তার প্রথম স্ত্রীর কাছেই দায়ী বলে মনে করেন। আগের মতো সম্পর্ক ফিরিয়ে আনতে পারাই তার কাছে ন্যায়বিচারের প্রমাণ হবে বলেও মন্তব্য করেন।

স্ট্যাটাসের আরেক অংশে মামুনুর রশীদ কাসেমীকে নিয়ে সমালোচনার জবাব দেন রফিকুল ইসলাম মাদানী। তিনি বলেন, আইএমভি এমন নারী-পুরুষদের মধ্যে যোগাযোগ করিয়ে দেয় যারা স্বেচ্ছায় একাধিক বিয়েতে আগ্রহী। কাউকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয় না। বরং অনেক বিধবা, অসহায় কিংবা আশ্রয়হীন নারীর জন্য এটি আশ্রয়ের ব্যবস্থা তৈরি করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মামুনুর রশীদ কাসেমীর চারটি বিয়ে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার স্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলে যদি জানা যায় তারা সন্তুষ্ট ও সুখী, তাহলে অন্যদের সমস্যা কোথায়—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এক পর্যায়ে সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, অনেকেই ঘরে একজন স্ত্রী রেখে বাইরে একাধিক সম্পর্কে জড়ান, কিন্তু প্রকাশ্যে একাধিক বিয়েকে সমালোচনা করেন। এছাড়া একাধিক বিয়ে নিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা জায়েজ কি না, সেটি তিনি বা সাধারণ মানুষ নির্ধারণ করবেন না বলেও উল্লেখ করেন। তার মতে, এ বিষয়ে দেশের স্বীকৃত আলেমরা মতামত দেবেন।

স্ট্যাটাসের শেষ অংশে মাদানী দাবি করেন, তার সমালোচকদের একটি বড় অংশ মূলত কুরআনে বর্ণিত একাধিক বিয়ের বিধানকে অপছন্দ করেন। তার ভাষ্য, তারা সমাজে অবৈধ সম্পর্ককে সহজভাবে দেখেন বলেই এ ধরনের সমালোচনা করেন। তবে কিছু মানুষের বাস্তবসম্মত সমালোচনাকে তিনি গ্রহণযোগ্য বলেও মন্তব্য করেন।

সবশেষে তিনি লেখেন, “এ দেশের অনেক আলেমবিদ্বেষী মানুষ এপস্টিন ফাইলস বা বড়লোক বড় নেতাদের স্ত্রী রেখে ৫টা ৭টা রক্ষিতা নিয়েও এত কথা বলেনি, যতটা আমার একাধিক বিয়ে নিয়ে বলছে। তাদের কাছে মনে হয়, এপস্টিন ফাইলসের সেই ছোট ছোট শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা বা বড় নেতাদের রক্ষিতা রাখার চেয়েও আমার দ্বিতীয় বিয়ে বড় অপরাধ!”

/এইচটি