হাওড়াঞ্চলে টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও বাঁধ ভাঙার ঘটনায় ব্যাপক কৃষি বিপর্যয় নেমে এসেছে। নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকায় পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে হাজার হাজার কৃষক পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।
নেত্রকোনার মদন উপজেলার গণেশের হাওড়ে বুকসমান পানিতে দাঁড়িয়ে ছেলেদের ডুবে যাওয়া ধান তুলতে দেখছিলেন বৃদ্ধ সাইকুলের মা। অসহায় কণ্ঠে তিনি জানান, ঘরে খাবার নেই, কম দামের সরকারি চাল কিনে কোনোমতে দিন কাটছে। এক ছেলের স্ত্রীর সিজার অপারেশনের জন্য টাকা জোগাড় করতে ঋণ করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, নেত্রকোনায় ১৫ হাজার হেক্টরের বেশি জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে। কংস নদীর পানি বিপদসীমার ১ দশমিক ১০ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মদন উপজেলাতেই প্রায় ৪ হাজার হেক্টর বোরো জমি তলিয়ে গেছে। এতে অন্তত ৯ হাজার কৃষকের প্রায় ৩৪ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে বোয়ালা হাওড়ের ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে নতুন করে পানি ঢুকেছে। এর আগে শালদিঘা হাওড়েও বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করেছিল। কৃষকদের অভিযোগ, কালভার্টের মুখে সুরক্ষাবেষ্টনী না থাকায় বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে ধান কাটবেন নাকি বাঁধ রক্ষা করবেন—এমন দ্বিধায় পড়েছেন তারা। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, অন্তত ২০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়নি, যা পানিতে ডুবে গেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে জমির ধান পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে আহাদ মিয়া নামে এক কৃষক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। শ্রমিক নিয়ে ধান কাটতে গিয়ে নিজের জমি ডুবে থাকতে দেখে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কিশোরগঞ্জের হাওড়াঞ্চলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় অন্তত ৬ হাজার ৭৬৮ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে ইটনা ও অষ্টগ্রামে ক্ষতি বেশি হয়েছে। রোদ না থাকায় কেটে আনা ধান শুকানো যাচ্ছে না, ফলে খলায় স্তূপ করে রাখা ধান পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিন দেশের বেশিরভাগ এলাকায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
/বিএসএস