সংগৃহীত ছবি
রাজধানী ঢাকায় হকার ও ফুটপাতে ব্যবসা করা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ একটি কমিটি গঠন করেছে এবং তারা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই এই নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে।
সম্প্রতি জারি করা অফিস আদেশ অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে কমিটির আহ্বায়ক এবং উপসচিব (সিটি-১) রবিউল ইসলামকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। এছাড়া কমিটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) এবং রাজউকের একজন পরিচালক সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরীর হকারদের শৃঙ্খলায় আনা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে মূল সড়ক থেকে সুবিধাজনক স্থানে তাদের পুনর্বাসনের জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করে তা দ্রুত স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে জমা দিতে হবে।
এ বিষয়ে সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে আরও একটি সভা হবে। দ্রুতই নীতিমালা চূড়ান্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
চলতি মাসের শুরুতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও দুই সিটি কর্পোরেশন যৌথভাবে রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালায়। ১ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে ১১ লাখ ৩১ হাজার ৪৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়, ৪৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং ১৭০টি মামলা করা হয়। পাশাপাশি অবৈধ স্থাপনা ও যানবাহন জব্দ করা হয়।
গুলিস্তান, নিউমার্কেট, নীলক্ষেত ও সায়েন্সল্যাবসহ বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত সাময়িকভাবে দখলমুক্ত হলেও কিছুদিনের মধ্যেই আবার হকারদের দখলে চলে যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতেও এসব কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
অতীতে বহুবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না থাকায় হকাররা দ্রুতই ফিরে আসেন। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরেই তারা একটি জাতীয় নীতিমালার দাবি জানিয়ে আসছেন।
গত ১৬ এপ্রিল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের আয়োজিত সমাবেশে হকাররা পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ না করার দাবি জানান। তারা জীবিকা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, চাঁদাবাজি বন্ধ, প্রকৃত হকারদের তালিকা তৈরি এবং সরকারি জায়গা বরাদ্দসহ ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন।
এদিকে হকার পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন রাজধানীতে ৮টি নৈশ মার্কেট চালুর পরিকল্পনা করেছে। ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানিয়েছেন, অফিস সময়ের পর বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত নির্দিষ্ট স্থানে হকারদের বসার সুযোগ দেওয়া হবে, যাতে সারাদিন শহরের বিভিন্ন স্থানে ফুটপাত দখল না হয়।