রবীন্দ্র সরোবরের আদলে ধানমন্ডি লেকের পাশে ‘নজরুল সরোবর’ নামে একটি আধুনিক উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ধানমন্ডি লেকের তলদেশের স্লাজ অপসারণের কাজ শেষ হওয়ার পরপরই পানি শোধন, সাইডওয়াল সংস্কার, ওয়াকওয়ে আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ, সৌন্দর্যবর্ধন এবং আলোকসজ্জার কাজ শুরু হবে। শিশুদের জন্য স্পিডবোটের ব্যবস্থাও রাখা হবে। পাশাপাশি পুরো ধানমন্ডি এলাকার রাস্তা, ফুটপাত ও সার্বিক অবকাঠামো সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর ধানমন্ডি লেকের পুনঃখননকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা জানান ডিএসসিসি প্রশাসক।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধানমন্ডি লেকের দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার এবং গড় প্রস্থ ৫৬ মিটার। লেকে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৩৪ ঘনমিটার স্লাজ বা কাদা ও বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিদিন প্রায় ৭০০ ঘনমিটার স্লাজ অপসারণ করা হবে। এ কাজে দুটি ভাসমান এক্সেভেটর ও চারটি বার্জ ব্যবহার করা হবে। প্রায় এক বছর মেয়াদি এই পুনঃখনন প্রকল্পের প্রাথমিক প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬ কোটি টাকা।
১৯৬০-এর দশকে পুরোনো পাণ্ডু নদীর অবশিষ্টাংশ নিয়ে ধানমন্ডি লেকের সৃষ্টি হয়। প্রায় ৮৬ একর আয়তনের এই এলাকায় বর্তমানে জলাশয়ের পরিমাণ ৫৫ একর।
ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, অবকাঠামোগত ক্ষয় এবং পরিবেশগত ক্ষতি দূর করে ধানমন্ডি লেককে পুনরুদ্ধার ও আধুনিক বিনোদনকেন্দ্রে রূপ দিতে মোট ৭৫ কোটি টাকার একটি মাস্টারপ্ল্যান নেওয়া হয়েছে।
এই মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে লেক ও এর অবকাঠামো সংস্কারে। আর ‘নজরুল সরোবর’ বা ‘বিদ্রোহী চত্বর’ নির্মাণে ব্যয় হবে ২৫ কোটি টাকা।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে লেকের পাড়ের সুরক্ষা ও ঢাল স্থিতিশীল করা হবে। পাশাপাশি আধুনিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা, হাঁটার পথ সংস্কার, আলোকসজ্জা, সীমানাবেষ্টনী এবং নিরাপত্তা রেলিং মেরামতের কাজও করা হবে।
লেক এলাকায় নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা, অ্যানাউন্সমেন্ট সিস্টেম এবং নির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হবে। বিনোদনের নতুন সুবিধা হিসেবে রাখা হবে তিনটি ভাসমান ডেক, কিয়স্ক, আধুনিক জিম, ক্যাফেটেরিয়া, ব্যাডমিন্টন কোর্ট, উন্মুক্ত ব্যায়ামাগার এবং পার্কিং সুবিধা।
এ ছাড়া উদ্ভিদের চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত ‘ট্রি হাসপাতাল’, নিরাপদ খাবার পানি এবং জনবান্ধব শৌচাগারের ব্যবস্থাও থাকবে।
কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের ঠিক বিপরীতে ধানমন্ডির ১৩/এ ও ৮/এ সড়কের পাশে ৫০ দশমিক ৯৬৭ কাঠা জমিতে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘নজরুল সরোবর’ বা ‘বিদ্রোহী চত্বর’ নির্মাণ করা হবে।
এই সাংস্কৃতিক পরিসরে নজরুলসংগীত পরিবেশন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা আয়োজনের জন্য উন্মুক্ত অ্যাম্ফিথিয়াটার ও গ্রিনরুম থাকবে। পাশাপাশি কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও বিদ্রোহী চেতনাকে কেন্দ্র করে বুক কর্নার, লাইব্রেরি ও তথ্যফলক রাখা হবে।
পরিকল্পনায় নগর বন, প্লাজা এবং লেকের ঘাটও থাকবে। এ ছাড়া কবি কাজী নজরুল ইসলামের পছন্দের খাবার পরিবেশনের জন্য বিশেষ রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
লেকের তলদেশ থেকে স্লাজ অপসারণের কাজ শেষ হওয়ার পরপরই লেকের মূল সংস্কার এবং ‘নজরুল সরোবর’ নির্মাণের কাজ একযোগে বাস্তবায়ন করা হবে।
/এসএন