• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম


অনুমতি ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে ছবি-ভিডিও ধারণে নিষেধাজ্ঞা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৬ অক্টোবর ২০২৬ ১০:২৩ পিএম

কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের সংবেদনশীল স্থাপনা, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ফটোগ্রাফি, ভিডিও ধারণ, স্কেচ প্রণয়ন এবং এসব দৃশ্যমান তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের প্রধান সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার। জাতীয় অর্থনীতি, আমদানি-রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও বন্দরের ভূমিকা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও জাতীয় নিরাপত্তা বিধিমালা অনুসরণ করে বন্দরের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আইএসপিএস অনুসরণকারী বন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর ‘জিরো অবজারভেশন’ অর্জন করেছে।

দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ক’ শ্রেণির কেপিআই হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২-এর ১২ ধারা অনুযায়ী বন্দরের সুষ্ঠু পরিচালনা এবং সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে বন্দর সীমানার অন্তর্ভুক্ত সব স্থান ও স্থাপনা সংরক্ষিত বন্দর এলাকা হিসেবে বিবেচিত।

পাশাপাশি অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩-এর বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবেদনশীল স্থান, তথ্য, নকশা, ছবি বা অন্যান্য উপাত্তের অননুমোদিত ধারণ, প্রকাশ বা প্রচার আইনগতভাবে দণ্ডনীয় হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পূর্বানুমোদন ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, গণমাধ্যম কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে বন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা, সংরক্ষিত এলাকা, নজরদারি সক্ষমতা, স্থাপনার বিন্যাস এবং অপারেশনাল তথ্য প্রকাশ বা প্রচার সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত। এ ধরনের কার্যক্রম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ কারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া বন্দরের সংবেদনশীল স্থাপনা, নিরাপত্তাব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, প্রবেশ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নজরদারি ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জাহাজ ও কার্গো ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য সংবেদনশীল স্থাপনার ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ, স্কেচ তৈরি কিংবা যেকোনো ধরনের দৃশ্যমান তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে কেপিআই সংরক্ষিত এলাকা এবং নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট স্থাপনার ক্ষেত্রে অনুমতিবিহীন কোনো ধরনের কার্যক্রম কঠোরভাবে পরিহার করতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বন্দর ব্যবহারকারী সবাইকে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে। অননুমোদিত তথ্য প্রকাশ বা প্রচারের মাধ্যমে বন্দরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন, নিরাপত্তা বিধিমালা এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রচলিত নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এএসএফ