• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম


সংলাপ নয়, এক দফা—৩ আগস্টে বদলে যায় জুলাই আন্দোলনের গতিপথ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩ আগস্ট ২০২৬ ৫:০৩ পিএম

২০২৪ সালের ৩ আগস্ট কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চলমান সহিংসতা, প্রাণহানি ও দমন-পীড়নের মধ্যে আন্দোলন থামাতে সংলাপের উদ্যোগ নেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে সরকার পতনের এক দফা দাবি ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়েই আন্দোলন নতুন মোড় নেয়।

সেদিন সকালে গণভবনে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘গণভবনের দরজা খোলা। আমি আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে বসতে চাই এবং তাদের কথা শুনতে চাই। আমি কোনো সংঘাত চাই না।’

তবে বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। বিকেল ৫টার দিকে সমাবেশে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম এক দফা দাবি ঘোষণা করে বলেন, ‘মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা এক দফা দাবির সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। দফাটি হলো, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ এই সরকারের পতন ও ফ্যাসিবাদের বিলোপ।’

এই ঘোষণার মাধ্যমে আন্দোলনের লক্ষ্য কোটা সংস্কারের দাবির গণ্ডি অতিক্রম করে সরাসরি সরকার পতনের দাবিতে রূপ নেয়। একই সঙ্গে আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিও জানান আন্দোলনের নেতারা।

সেদিন বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমবেত হন। শহীদ মিনার ও আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। আন্দোলনকারীরা ‘দফা এক, দাবি এক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’ এবং ‘জাস্টিস, জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’সহ বিভিন্ন স্লোগানে মুখর করে তোলেন পুরো এলাকা।

সমাবেশ থেকে সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৫ দফা কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে কর ও বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধ থেকে বিরত থাকা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতি পালন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা এবং প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স না পাঠানোর আহ্বানও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এদিকে একই দিনে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, জনগণের স্বার্থে এবং রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সেনাবাহিনী সব সময় জনগণের পাশে থাকবে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচারের মাধ্যমে একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও দাবি করেন, আন্দোলন আর কোটা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে।

৩ আগস্ট রাজধানীর পাশাপাশি কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, বগুড়া, সিলেট, কুষ্টিয়া, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়ও বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়।

তবে দিনটির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ছিল গণভবনের সংলাপের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ‘এক দফা’ দাবি ঘোষণা। পরবর্তী সময়ে এই ঘোষণাই আন্দোলনের গতিপথ বদলে দেয় এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যায়।

/এসএন