• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম


গ্যাস নেই, বাড়ছে লোডশেডিং—জনভোগান্তি চরমে!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩ আগস্ট ২০২৬ ১২:০২ পিএম

দেশজুড়ে চলমান গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ২১ জুলাই এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর গ্যাস সরবরাহে যে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার আগেই ১০ থেকে ১৫ আগস্টের জন্য নির্ধারিত দুটি এলএনজিবাহী কার্গো সরবরাহে কোনো আন্তর্জাতিক কোম্পানি আগ্রহ না দেখানোয় নতুন সংকটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ সময়ের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হলেও তালিকাভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান এলএনজি সরবরাহে অংশ নেয়নি। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনাল আংশিক চালু হলেও পর্যাপ্ত এলএনজি না থাকায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

বর্তমানে দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে শুধু সামিট গ্রুপের টার্মিনাল চালু রয়েছে। এই টার্মিনাল দিয়েই জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৫০ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে আগামী ১০ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নতুন কার্গো না এলে সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে সরকার জরুরি ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে (জিটুজি) সৌদি আরামকো ও মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির কাছে এলএনজি সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠানের ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সব ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে। তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল চালুর জন্য একাধিকবার সময় ঘোষণা করা হলেও এখনো সেটি চালু হয়নি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্টের দিকে টার্মিনালটি আংশিক চালুর সম্ভাবনা রয়েছে, তবে বিষয়টি নিশ্চিত নয়।

জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলএনজি আমদানির সূচিতে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। টার্মিনাল সচল না হওয়া পর্যন্ত অনেক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এলএনজি পাঠাতে অনাগ্রহী।

গত সপ্তাহে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) ১০ থেকে ১৫ আগস্ট এবং ১৫ থেকে ১৬ আগস্টের জন্য তিনটি এলএনজি কার্গো আমদানির দরপত্র আহ্বান করে। এর মধ্যে ১০ থেকে ১৫ আগস্টের দুটি কার্গোর জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয়নি। তবে ১৫ থেকে ১৬ আগস্টের একটি কার্গো সরবরাহে সর্বনিম্ন দর দিয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক ভিটল এশিয়া লিমিটেড।

এদিকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে এক্সিলারেট, কাতার এনার্জি, আরামকো ও ওমান গ্যাসসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে এলএনজি সরবরাহ স্থগিত রেখেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

গ্যাস সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যেই শিল্প খাতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অনেক শিল্পকারখানায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশজুড়ে লোডশেডিংও বেড়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেলে দেশের বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৮৪ মেগাওয়াট, কিন্তু উৎপাদন হয় ১৩ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট। ফলে প্রায় ২ হাজার ৬৩৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন অন্তত ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৬৮ কোটি ঘনফুট। এ কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

অন্যদিকে, রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক রাখতে তিতাস গ্যাস সিস্টেম কোম্পানিকে অতিরিক্ত ৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে বাখরাবাদ, কর্ণফুলী ও জালালাবাদ গ্যাস বিতরণ কোম্পানির আওতাধীন এলাকায় সরবরাহ আরও কমে গেছে।

/এএসএফ