সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে আলোচনায় আসা ফুটপাথে পানি বিক্রি করা সংগ্রামী কিশোর সুজনের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। বাবাকে নিজের উপার্জনের অর্থে পবিত্র হজে পাঠানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে সুজনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে।
এরপর সুজনের স্বপ্নপূরণ এবং তার ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেই নির্দেশনার আলোকে সোমবার জিয়া উদ্যানে সুজনের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
অনুদান প্রদানকালে প্রতিমন্ত্রী সুজনের পরিবারের প্রতি আহ্বান জানান, তাকে আর কোনো ঝুঁকিপূর্ণ বা কায়িক শ্রমে না পাঠিয়ে নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানোর জন্য। একইসঙ্গে তিনি সুজনের পড়াশোনার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
প্রতিমন্ত্রীর এ আশ্বাসে আবেগাপ্লুত হয়ে সুজনের বাবা জানান, তিনি আর কখনো ছেলেকে ফুটপাথে পানি বিক্রি করতে দেবেন না। যত দ্রুত সম্ভব তাকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোরও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে আসা মানবিক বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তার নির্দেশ দেন। তার ভাষ্য, গত কয়েক বছর ধরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ ধরনের বহু মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাবাকে হজে পাঠানোর সুজনের ইচ্ছা অত্যন্ত মহৎ। তবে সরকার চায়, সে ফুটপাথে পানি বিক্রি না করে নিয়মিত পড়াশোনা করুক, নিজের যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে ভবিষ্যতে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করুক।
সুজনের অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা এবং পরিবারের আর্থিক সংকটের কথা বিবেচনায় নিয়ে তিনি জানান, এখন থেকে সুজনের পরিবারের জন্য প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সহায়তা সরাসরি তার বাবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি সুজনের পড়াশোনার সব ধরনের দায়িত্বও সরকার বহন করবে, যাতে সে সুশিক্ষিত হয়ে ভবিষ্যতে নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে।
/এএসএফ