• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩০ এএম


বিতর্কের পর বদলে গেল প্রতিমন্ত্রীর ছেলেদের নামে নামকরণ করা বগুড়ার তিন ইউনিয়নের নাম!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৯ জুলাই ২০২৬ ১১:১৭ পিএম

গণশুনানির পর বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নতুন নাম ঘোষণা

গণশুনানির মাধ্যমে বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার আলোচিত তিনটি ইউনিয়নের নতুন নাম নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান নতুন নাম ঘোষণা করেন। এ সময় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিবগঞ্জ উপজেলার মীরবাড়ি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে বেতগাড়ী ইউনিয়ন, মোকামতলা উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের নাম জগন্নাথপুর ইউনিয়ন এবং দিগন্ত ইউনিয়নের নাম রহবল ইউনিয়ন রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানান, প্রশাসনের সমন্বয় সভায় তিনটি ইউনিয়নের নতুন নাম অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখন এ প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর নতুন নামগুলো গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

এর আগে ১৪ জুন জারি করা সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় তিনটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। সেগুলোর নাম রাখা হয়েছিল মীরবাড়ি ইউনিয়ন, সীমান্ত ইউনিয়ন ও দিগন্ত ইউনিয়ন।

পরে এই নামগুলো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। কারণ, মীরবাড়ি নামটি বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নাম। এছাড়া সীমান্ত ও দিগন্ত নাম দুটি তাঁর দুই ছেলে—মীর শাকরুল আলম সীমান্ত এবং মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নামের সঙ্গে মিলে যায়।

এ ছাড়া অভিযোগ ওঠে, স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়নের নামও প্রতিমন্ত্রীর প্রবাসী ভাতিজির পারিবারিক নামের সঙ্গে মিল রেখে রাখা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং তা জাতীয় সংসদেও ওঠে।

সংসদে এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, নতুন ইউনিয়নের নাম স্থানীয় প্রশাসনের যাচাই-বাছাই ও গণশুনানির ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, তাঁর সন্তানদের নামের সঙ্গে মিলটি কেবল কাকতালীয়।

তবে বিতর্কের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইউনিয়নগুলোর নাম পরিবর্তনের জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। এরপর ২৩ ও ২৫ জুন দুই দফায় গণশুনানির আয়োজন করা হয়। সেই গণশুনানির সুপারিশের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রস্তাব জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত নতুন নাম অনুমোদন করা হয়।

/এএসএফ