• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১০ এএম


এমসি কলেজে স্বামীকে আটকে স্ত্রীকে ধর্ষণ: ছাত্রলীগ নেতা সাইফুরের মৃত্যুদণ্ড

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৪ জুলাই ২০২৬ ৪:৫৪ পিএম

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে অপহরণের পর স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর ২টায় সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।

ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রায়ে ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শাহ মাহবুবুর রহমান (রনি), তারেকুল ইসলাম (তারেক) এবং অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় অপর চার আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শাহপরান মাজার এলাকা থেকে ফেরার পথে এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এক দম্পতির প্রাইভেটকার থামিয়ে কয়েকজন যুবক তাদের কলেজ ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়। সেখানে স্বামীকে আটকে রেখে গাড়ির ভেতরে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। একই সঙ্গে দম্পতির কাছ থেকে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া এবং তাদের গাড়ি আটকে রাখার অভিযোগও ওঠে।

ঘটনার রাতেই ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। তদন্তের একপর্যায়ে আরও দুই ব্যক্তির সম্পৃক্ততা শনাক্ত হয়। গাড়ি আটকে রেখে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে দায়ের করা পৃথক মামলাটিও এ মামলার সঙ্গে একত্রে বিচার করা হচ্ছে।

ঘটনার পর আত্মগোপনে গেলেও পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে তিন দিনের মধ্যে আট আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত চলাকালে কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামতের মিল পাওয়া যায় বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে পৌঁছায়।

/এএসএফ