লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে প্রেমের বিয়ের সাত মাস পর মারিয়া জাহান মীম (১৬) নামে এক কিশোরী গৃহবধূকে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মাহিম হোসেনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
রোববার (২১ জুন) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১১ নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত। এর আগে শনিবার (২০ জুন) দিবাগত রাতে রাজধানীর সাভার ও আশুলিয়ায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মাহিম হোসেন রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার ইউনিয়নের আসলপাড়া গ্রামের প্রবাসী মোহাম্মদ হানিফের ছেলে। অন্য দুই গ্রেপ্তার ব্যক্তি হলেন মাহিমের মা মাহিনুর বেগম এবং স্বজন দেলোয়ার হোসেন সোহাগ। এর মধ্যে সোহাগকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
র্যাব ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত মারিয়া জাহান মীম রামগতি উপজেলার চরসেকান্তর গ্রামের আব্দুল মালেকের মেয়ে। গত ৯ জুন শ্বশুরবাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই স্বামী, শাশুড়িসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যান।
ঘটনার দুই দিন পর নিহতের মা বাদী হয়ে রামগতি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে র্যাব-১১ অভিযান চালিয়ে স্বামী মাহিম, তার মা মাহিনুর বেগম এবং দেলোয়ার হোসেন সোহাগকে গ্রেপ্তার করে।
জানা গেছে, প্রায় সাত মাস আগে প্রেমের সম্পর্কের জেরে পরিবারের অমতে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন মীম ও মাহিম। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
নিহতের চাচা রাকিব হোসেন সাংবাদিকদের জানান, বিয়ের পর থেকে মীমের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের খুব একটা যোগাযোগ ছিল না। সম্প্রতি মাহিমের বাবা বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর দুই পরিবার বিয়ের বিষয়টি মেনে নেওয়ার আলোচনা শুরু করে। তবে কাবিনের টাকা এবং অন্যান্য পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। তাদের ধারণা, এসব বিরোধের জেরেই মীমকে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে।
র্যাব-১১ নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত বলেন, গ্রেপ্তার তিন আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রামগতি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
/এএসএফ