• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫১ পিএম


দাঁতের যত্নে নিমের ডাল নাকি কাঠকয়লা—কোনটি বেশি উপকারী?

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৭ জুলাই ২০২৬ ২:৪৬ পিএম

বাংলার গ্রামাঞ্চলে একসময় নিমের ডাল কিংবা কাঠকয়লার গুঁড়ো বা ছাই দিয়ে দাঁত মাজা ছিল খুবই পরিচিত একটি অভ্যাস। আধুনিক টুথব্রাশ ও টুথপেস্টের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই চর্চা অনেকটাই কমে এসেছে। তবে দাঁতের যত্নে এই দুটি প্রাকৃতিক উপাদানের কার্যকারিতা নিয়ে এখনও আগ্রহ রয়েছে অনেকের। প্রশ্ন হচ্ছে, দাঁতের জন্য আসলে কোনটি বেশি উপকারী—নিমের ডাল, নাকি কাঠকয়লা?

নিমের ডাল: প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক

প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদে নিমের ডালকে প্রাকৃতিক টুথব্রাশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নিমের ডালে রয়েছে বিভিন্ন ঔষধি গুণ, যা দাঁত ও মাড়ির যত্নে কার্যকর বলে মনে করা হয়।

ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে কার্যকর: নিমে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান মুখের ক্ষতিকর জীবাণু এবং ক্যাভিটি তৈরিকারী ব্যাকটেরিয়া দমন করতে সাহায্য করে।

মাড়ির সুরক্ষায় সহায়ক: নিয়মিত নিমের ডাল ব্যবহার করলে মাড়ি শক্ত হতে পারে এবং মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার সমস্যাও কমতে পারে।

মুখের দুর্গন্ধ দূর করে: নিমের ডাল মুখের দুর্গন্ধ দূর করতেও কার্যকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যবহারের পদ্ধতি: নিমের ডালের এক প্রান্ত চিবিয়ে নরম করে ব্রাশের মতো ব্যবহার করা হয়। এর তিতা রস মুখের লালার সঙ্গে মিশে দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।

গ্রামীণ কাঠকয়লা বা ছাই: ঐতিহ্যবাহী দাঁত পরিষ্কারের উপায়

গ্রামবাংলায় দীর্ঘদিন ধরে উনুনের পোড়া কাঠকয়লা বা তার ছাই গুঁড়ো করে দাঁত মাজা হতো। এটি দাঁত পরিষ্কারের একটি প্রচলিত পদ্ধতি ছিল।

প্রাকৃতিক ব্লিচিং এজেন্ট: কাঠকয়লার শোষণ ক্ষমতা ভালো হওয়ায় এটি দাঁতের ওপর জমে থাকা হলুদ বা কালচে দাগ, যেমন চা, কফি কিংবা তামাকের দাগ তুলতে সহায়তা করতে পারে।

মুখের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক: এটি মুখের ভেতরের ক্ষতিকর অ্যাসিড কমাতে এবং ক্ষারীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

সতর্কতা: কাঠকয়লার গুঁড়ো অত্যন্ত কর্কশ বা এব্রাসিভ। প্রতিদিন বা অতিরিক্ত জোরে ব্যবহার করলে দাঁতের ওপরের এনামেল ক্ষয়ে যেতে পারে। এর ফলে দাঁত সংবেদনশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

কোনটি বেশি উপকারী?

কার্যকারিতা ও নিরাপত্তার দিক থেকে তুলনা করলে নিমের ডালকে কাঠকয়লার চেয়ে বেশি নিরাপদ ও উপকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিমের ডালের ভেষজ গুণ দাঁত ও মাড়ি উভয়কেই সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। অন্যদিকে, কাঠকয়লার গুঁড়ো দাঁতের দাগ দূর করতে সাময়িকভাবে উপকারী হলেও অতিরিক্ত ব্যবহারে দাঁতের এনামেলের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।

আধুনিক সময়ে এসব গ্রামীণ ঐতিহ্য অনেকটাই হারিয়ে গেলেও দাঁতের প্রাকৃতিক যত্নে সপ্তাহে এক-আধ দিন নিমের ডাল ব্যবহার উপকারী হতে পারে। আধুনিক টুথপেস্টের পাশাপাশি মাঝে মাঝে নিমের ডাল ব্যবহার করলে দাঁত ও মাড়ির স্বাভাবিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

/এসএন