• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম


বিয়ের পরও প্রাক্তনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা কি ঠিক?

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১০ জুলাই ২০২৬ ৯:৪৩ পিএম

প্রেম জীবনে একবারই আসে—এমন ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে সব সময় মেলে না। অনেকের জীবনেই একাধিকবার প্রেম আসে, আবার কোনো সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়, কোনোটি নির্দিষ্ট এক পর্যায়ে এসে শেষ হয়ে যায়। কিন্তু সেই সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর, বিশেষ করে নতুন সম্পর্কে জড়ানো বা বিয়ের পর, প্রাক্তনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা উচিত কি না—এ প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে সম্পর্কের ধরন, বিচ্ছেদের পরিস্থিতি এবং বর্তমান সম্পর্কের ওপর।

প্রথমেই নিজের কাছে একটি প্রশ্ন রাখা জরুরি—প্রাক্তন মানুষটি এখনো কেন আপনার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ? আপনি কি এখনো তাকে ভালোবাসেন, নাকি তিনি কেবল একজন বন্ধু হিসেবে আপনার জীবনে রয়েছেন?

যদি মনে হয়, এখনো তার প্রতি ভালোবাসা রয়ে গেছে, তাহলে নতুন সম্পর্কে যাওয়ার আগে নিজের অনুভূতিগুলো নিয়ে গভীরভাবে ভাবা প্রয়োজন। তবে যদি তিনি সত্যিই একজন ভালো বন্ধু হয়ে থাকেন এবং সেই সম্পর্ক সম্পূর্ণ বন্ধুত্বের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে।

তবে বিয়ের পরও প্রাক্তনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা যে সব সময় সহজ হবে, এমনটি ভাবার সুযোগ নেই।

নতুন সম্পর্কে কী ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে?

বিয়ের পর মানুষের জীবনে নতুন দায়িত্ব, নতুন সম্পর্ক এবং নতুন বাস্তবতা যুক্ত হয়। এই সময় অতীতের কোনো সম্পর্কের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বর্তমান সঙ্গীর মধ্যে অস্বস্তি বা অনিরাপত্তাবোধ তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে যদি সেই ব্যক্তি হন অতীতের প্রেমিক-প্রেমিকা বা সাবেক স্বামী-স্ত্রী, তাহলে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। অনেক সময় ছোটখাটো ঈর্ষা থেকে ভুল বোঝাবুঝি, তর্ক-বিতর্ক এমনকি বড় ধরনের দাম্পত্য কলহও তৈরি হতে পারে।

তবে সচেতনতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে এমন পরিস্থিতি অনেক ক্ষেত্রেই এড়িয়ে চলা সম্ভব।

প্রাক্তন যদি এখন শুধু বন্ধু হন

অনেক সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরও দুইজন মানুষের মধ্যে সুস্থ বন্ধুত্ব বজায় থাকে। কখনো কখনো সেই বন্ধুত্বই তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হয়ে ওঠে।

এমন পরিস্থিতিতে নতুন সম্পর্কের শুরু থেকেই বর্তমান সঙ্গীকে বিষয়টি জানানো গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে সেই বন্ধুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং উভয় পক্ষ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলে মাঝেমধ্যে একসঙ্গে সময় কাটানোও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

এতে অকারণ সন্দেহ, ঈর্ষা কিংবা অনিরাপত্তাবোধ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। একই সঙ্গে পুরোনো বন্ধুত্বও স্বাভাবিকভাবে টিকে থাকতে পারে।

খোলামেলা আলোচনা সবচেয়ে জরুরি

প্রাক্তনের সঙ্গে বন্ধুত্ব নিয়ে সবার মত এক নয়। ব্যক্তি, পরিস্থিতি ও বিচ্ছেদের ধরন অনুযায়ী সিদ্ধান্তও ভিন্ন হতে পারে। তবে যেসব ক্ষেত্রে সম্পর্কের সমাপ্তি তিক্ত ছিল না এবং উভয়ের মধ্যে সম্মানজনক বন্ধুত্ব রয়েছে, সেখানে সুস্থ যোগাযোগ বজায় রাখা অসম্ভব নয়।

তবে এই যোগাযোগ যদি বর্তমান সঙ্গীর মনে কোনো ধরনের অস্বস্তি বা অনিশ্চয়তা তৈরি করে, তাহলে বিষয়টি এড়িয়ে না গিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করা উচিত। সম্পর্কের শুরু থেকেই এমন বিষয়গুলো পরিষ্কার থাকলে ভবিষ্যতে ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।

পারস্পরিক সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিন

অনেক দম্পতি বিয়ের আগেই একমত হন যে, বিয়ের পর কেউই প্রাক্তনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন না। এমন সিদ্ধান্ত হয়ে থাকলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস বজায় রাখতে সেই সিদ্ধান্ত মেনে চলাই উত্তম।

অতীত অনেক সুন্দর স্মৃতি বহন করলেও মানুষের জীবন এগিয়ে চলে বর্তমানকে কেন্দ্র করেই। বর্তমান সম্পর্কের প্রতি আন্তরিকতা, স্বচ্ছতা এবং সম্মানই একটি সুস্থ দাম্পত্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

সব সম্পর্কের বাস্তবতা এক নয়। তাই কোনো একটি সমাধান সবার জন্য প্রযোজ্যও নয়। তবে যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার রাখা, সঙ্গীর অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো এবং খোলামেলা যোগাযোগ বজায় রাখাই একটি সুস্থ সম্পর্কের মূল চাবিকাঠি।

/এসএন