বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার সরকারি গাড়িবহরের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসনিক ব্যয় কমানো এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্পেশাল প্রটেকশন গ্রুপকে (এসপিজি) নির্দেশ দিয়েছেন, যেন প্রধানমন্ত্রীর কারকেডে বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) সংখ্যা বাড়ানো হয়। তবে এ জন্য নতুন কোনো গাড়ি কেনা যাবে না বলেও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
মোদির নির্দেশনার পর এসপিজি তাদের নির্ধারিত নিরাপত্তা নীতিমালা বা ‘ব্লু বুক’-এর সুরক্ষা মান বজায় রেখেই নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যয় সংকোচন নীতি ইতোমধ্যে বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যেও প্রভাব ফেলেছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজন লাল শর্মা এবং মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবও নিজেদের সরকারি গাড়িবহরের আকার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই উদ্যোগকে জ্বালানি ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা এবং প্রশাসনিক মিতব্যয়িতার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী মোদি অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণের যে আহ্বান জানিয়েছিলেন, এই সিদ্ধান্তকে তারই বাস্তব প্রয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়া এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে গত রবিবার দেশবাসীর উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দেন নরেন্দ্র মোদি।
তিনি বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন এবং মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি নাগরিকদের ‘জাতীয়ভাবে দায়িত্বশীল’ জীবনযাপন বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান।
মোদি দেশবাসীকে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় পণ্য ব্যবহারের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সবকিছুর জন্য যদি বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে জাতির অগ্রগতি সম্ভব নয়।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষার স্বার্থে আগামী এক বছর অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার বহিঃপ্রবাহ কমাতে বিদেশ ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
মোদির মতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষা করাও এক ধরনের দেশপ্রেম। তিনি পর্যটকদের বিদেশে ছুটি কাটানো বা বিদেশে ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’ আয়োজন না করে দেশের ভেতরেই পর্যটন ও উৎসব আয়োজনের পরামর্শ দেন।
বর্তমান কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই ধরনের আত্মত্যাগ জরুরি বলেও মন্তব্য করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
/এসএন