• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১৮ এএম


আসামে মসজিদ ভা/ঙার আগে নারীদের বুকফা/টা কান্না, মোনাজাতে ভারী হলো পরিবেশ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩ নভেম্বর ২০২৬ ১০:২৯ পিএম

আসামের ধুবড়ি জেলায় বুলডোজার দিয়ে মসজিদ ভেঙে ফেলার আগে মুসলিম নারীদের কান্না ও মোনাজাতের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। উচ্ছেদ অভিযানের ঠিক আগমুহূর্তে মসজিদের ভেতরে নারীদের নামাজ আদায় ও কান্নায় ভেঙে পড়ার এসব দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়েছেন অনেকেই।প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত রোববার আসামের ধুবড়ি জেলার গৌরীপুর-আলমগঞ্জ এলাকায় বুলডোজার দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর কিছুক্ষণ আগে মসজিদে অবস্থান করছিলেন নারীরা। এ সময় তাঁরা নামাজ আদায় ও মোনাজাতে মগ্ন ছিলেন। একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে থাকেন তাঁরা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত মানুষের মধ্যেও এই পরিস্থিতি গভীর আবেগের সৃষ্টি করে।আসাম সরকারের কথিত ‘জবরদখলমুক্ত আসাম’ অভিযানের অংশ হিসেবে ধুবড়ির আলমগঞ্জ পার্ট-৯ গ্রামে এই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। প্রশাসনের দাবি, শিল্প পার্ক নির্মাণের জন্য প্রায় ৬৫০ বিঘা সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে এ অভিযান চালানো হয়েছে।তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই অভিযানে ৬৪০টিরও বেশি বাঙালি মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে চার হাজারের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।প্রশাসন জমিগুলোকে অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে বলে দাবি করলেও স্থানীয় বাসিন্দারা তা অস্বীকার করেছেন। তাঁদের অনেকের বক্তব্য, ষাটের দশক থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে তাঁরা এই এলাকায় বসতি গড়ে তুলেছিলেন।গ্রামের ৮০ বছর বয়সী বাসিন্দা আলী চাঁদ ফকিরসহ স্থানীয় অনেকে জানান, ১৯৭২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ে তাঁরা ‘তৌজি’ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়মিত রাজস্ব ও ভূমিকর পরিশোধ করেছেন। দীর্ঘদিনের বসবাসের স্মৃতিবিজড়িত ঘরবাড়ি, গাছপালা ও মসজিদ মুহূর্তের মধ্যে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিজেপি সরকারের অধীনে গত এক দশকে আসামে ধারাবাহিক উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, যাঁদের অধিকাংশই মুসলিম। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর জন্য পুনর্বাসন কিংবা বিকল্প জমির ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ কেউ রাস্তার পাশে ত্রিপল টাঙিয়ে অস্থায়ী ঘর তৈরি করেছেন, আবার অনেকে নিচু চরাঞ্চলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।মসজিদ ভাঙার আগে নারীদের কান্না ও মোনাজাতের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের কাছে এটি শুধু একটি উপাসনালয় ভেঙে ফেলার দৃশ্য নয়; বরং ঘরবাড়ি ও দীর্ঘদিনের বসতি হারানো মানুষের অসহায়ত্ব এবং নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার আকুতির এক মর্মস্পর্শী চিত্র।

/বিএসএস