ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে ভোট গণনার সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যাচ্ছে ক্ষমতার সমীকরণ। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটকেন্দ্রের গণনা শেষে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ নেতৃত্বাধীন জোট ৫৪টি আসনে অবস্থান করছে। অন্যদিকে, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন ‘ইয়াশার’ জোটের আসনসংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৭টিতে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইসরায়েল’-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ভোট গণনার এই পর্যায়ে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে আরব দলগুলোর আসনসংখ্যায়। যৌথভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ‘জয়েন্ট লিস্ট’ ও ‘রা’আম’ দল নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। তাদের সম্মিলিত আসনসংখ্যা ১৬ থেকে বেড়ে ১৯টিতে পৌঁছেছে।
সর্বশেষ গণনা অনুযায়ী, একক দল হিসেবে ২৭টি আসন নিয়ে এগিয়ে রয়েছে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। ২০টি আসন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে গাদি আইজেনকটের ইয়াশার। এ ছাড়া আরব জোট জয়েন্ট লিস্ট ১৩টি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের দল ‘বেয়াহাদ’ ১১টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।
গণনার সর্বশেষ হালনাগাদে ইয়াশার জোটের একটি আসন কমেছে, যা জয়েন্ট লিস্টের আসনসংখ্যায় যুক্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আইজেনকটের জোটের আসন ৪৮ থেকে কমে ৪৭টিতে দাঁড়িয়েছে। তবে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের আসনসংখ্যা ৫৪টিতেই অপরিবর্তিত রয়েছে।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে প্রতিনিধিত্ব পেতে কোনো দলকে ন্যূনতম ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। সর্বশেষ গণনায় তিনটি দল এই সীমা অতিক্রম করতে পারেনি। দলগুলো হলো—রিজার্ভিস্টস, যারা পেয়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট; পিপল অব ইসরায়েল, ১ দশমিক ৭ শতাংশ; এবং হারেদি পাবলিক, শূন্য দশমিক ২ শতাংশ।
তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এগুলো এখনো আংশিক ফলাফল। সামরিক বাহিনীর সদস্যসহ বিশেষ ভোটারদের ‘ডাবল-এনভেলপ’ বা দ্বৈত খাম পদ্ধতিতে দেওয়া ভোট গণনা বাকি রয়েছে। ফলে চূড়ান্ত ফলাফলে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
নির্বাচনে আরব দলগুলোর আসন বৃদ্ধি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে। জয়েন্ট লিস্টের চেয়ারম্যান ইউসেফ জাবারিন জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে তাঁদের দল বাড়তি সংসদীয় শক্তি কাজে লাগাবে।
জাবারিনের অভিযোগ, নেতানিয়াহু ও ইতামার বেন-গভিরের নেতৃত্বাধীন সরকার আরব নাগরিকদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। তিনি বলেন, নিজেদের মূল্যবোধ রক্ষায় রাজনৈতিক শক্তিকে কীভাবে কাজে লাগাতে হয়, তা তাঁদের জানা আছে। নেতানিয়াহু, বেন-গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচের সরকারকে বিদায় জানাতে তাঁরা প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের বেদুইন-অধ্যুষিত শহরগুলোতে ভোটের ফল রা’আমের আসনসংখ্যা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দলটির আসন চারটি থেকে বেড়ে ছয়টিতে পৌঁছেছে।
রাহাত শহরের ৩১টি ভোটকেন্দ্রের গণনায় রা’আম ৮৩ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে জয়েন্ট লিস্ট পেয়েছে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট। একইভাবে কুসেইফ শহরে ৮৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং কাফর কাসিম শহরে ৭৪ দশমিক ০৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে রা’আম।
ভোট গণনা এখনো শেষ না হওয়ায় ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের চূড়ান্ত সমীকরণ নির্ধারিত হয়নি। বিশেষ ভোটারদের ব্যালট গণনা শেষে দলগুলোর আসনসংখ্যায় পরিবর্তন এলে সরকার গঠনের হিসাবেও নতুন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
/এএসএফ