ইসরাইলের নির্বাচন ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার রক্ষায় ইতিবাচক কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে—এমন জোরালো আশার জায়গা নেই বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির আশঙ্কা, ইসরাইলের নির্বাচন যেন ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান অপরাধ ও নিপীড়ন থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি না করে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এরিকা গুয়েভারা রোসাস সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রচারণায় ফিলিস্তিনবিরোধী মনোভাবের ব্যবহার নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে বেপরোয়াভাবে ফিলিস্তিনবিরোধী অবস্থানকে কাজে লাগিয়েছেন। এমনকি রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী অপরাধ আরও বাড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তাঁরা।
রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের এমন বৈরী মনোভাবের উদাহরণ হিসেবে ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিক এবং বালদ দলের প্রধান সামি আবু শাহেদেহকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁকে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা সম্মিলিতভাবে জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে ইসরাইলের ওপর যথেষ্ট রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব রয়েছে—এমন দেশগুলোর প্রতি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
এরিকা গুয়েভারা রোসাস নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশটির ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ইসরাইলের অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি স্থগিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সংস্থাটির বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরাইলের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে নজর দেওয়ার পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং তাঁদের ওপর চলমান নিপীড়নের বিষয়টিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সূত্র: আল-জাজিরা
/এএসএফ