ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে মেক্সিকো। দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমের সরকার ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে।
মেক্সিকো সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য উভয় রাষ্ট্রের অংশগ্রহণ এবং সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে আলোচনা প্রয়োজন। দেশটির এই অবস্থান নতুন নয়; বরং দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতা।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর জানান, তাঁর সরকারের সময় ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নাদিয়া রাশিদের পরিচয়পত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। এর আগে মেক্সিকোতে ফিলিস্তিনের কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্ব থাকলেও পূর্ণ রাষ্ট্রদূত হিসেবে স্বীকৃতির ক্ষেত্রে এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
শেইনবাউম বলেন, ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল—উভয় রাষ্ট্রের স্বীকৃতি এবং বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা বন্ধ করা তাঁর সরকারের অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মেক্সিকোর পররাষ্ট্রনীতিতে জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার, অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।
দেশটির সরকার মনে করে, ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন—উভয় পক্ষকে আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বীকৃতি, সার্বভৌম সমতা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েও মেক্সিকোর বক্তব্যে একই ধরনের অবস্থান দেখা যায়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গাজার জন্য প্রস্তাবিত শান্তি পর্ষদে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেলেও মেক্সিকো পূর্ণ সদস্য না হয়ে পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়।
সব মিলিয়ে, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে মেক্সিকো সরকার।
/এএসএফ