নাটোরের বনপাড়ায় বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য জানিয়েছেন দুর্ঘটনাকবলিত বাসের কয়েকজন যাত্রী। তাঁদের দাবি, সংঘর্ষের সময় আরপি স্পেশাল পরিবহনের বাসটি চালাচ্ছিলেন সুপারভাইজার সোহেল রানা। অন্যদিকে বাসের চালক ও তাঁর সহকারী পেছনের আসনে ঘুমিয়ে ছিলেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর চারটার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ১৪ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনায় নিহত সোহেল রানার বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরাদপুর গ্রামে। তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি আগে বাস চালাতেন। প্রায় দুই বছর আগে তিনি সুপারভাইজারের দায়িত্ব নেন।
দুর্ঘটনায় আহত বাসযাত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রমজান আলী জানান, তিনি চালকের আসন থেকে দুই সারি পেছনে বসেছিলেন। তাঁর দাবি, রাত আনুমানিক তিনটার দিকে বাসটি পাবনার ঈশ্বরদীতে পৌঁছালে চালক নিজের আসন ছেড়ে উঠে যান। এরপর বাসের স্টিয়ারিংয়ের দায়িত্ব নেন সুপারভাইজার সোহেল রানা। এ সময় চালক ও তাঁর সহকারী পেছনের আসনে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।
রমজান আলীর ভাষ্য, এর প্রায় এক ঘণ্টা পর বাসটি বনপাড়ায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
বাসের আরও দুই যাত্রী ইয়াকুব আলী ও আব্দুস সালামও একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে বরগুনা থেকে বাসটির যাত্রা শুরু হয়। পরে ঈশ্বরদীতে বিরতির পর আবার যাত্রা শুরু করলে সুপারভাইজার চালকের আসনে বসেন। এরপর কিছু সময়ের মধ্যেই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
মঙ্গলবার দুপুরে সোহেল রানার মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়ি ফরাদপুরে পৌঁছালে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়। তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও বাড়িতে ভিড় করেন।
সোহেল রানার স্ত্রী ডলি বেগম জানান, তাঁর স্বামী আগে বাস চালাতেন। প্রায় দুই বছর ধরে তিনি সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করছিলেন।
দুর্ঘটনার সময় বাসটি কে চালাচ্ছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
/এসএন