• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম


ফ্রান্সের বিক্ষোভকে ‘চরমপন্থি ইসলামের আগ্রাসন’– দাবি নেতানিয়াহুর

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২২ অক্টোবর ২০২৬ ৯:০৬ এএম

ফ্রান্সে ‘চরমপন্থি ইসলামের আগ্রাসন’ ঘটেছে, দাবি নেতানিয়াহুর

ফ্রান্সে ‘চরমপন্থি ইসলামের আগ্রাসন’ ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন। সপ্তাহান্তে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিক্ষোভ থেকে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার পর ফ্রান্সের সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্য পশ্চিমা বিশ্বের উগ্র ডানপন্থি রাজনীতিক ও ভাষ্যকারদের ব্যবহৃত বক্তব্যের প্রতিধ্বনি বলে উল্লেখ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

এসব রাজনীতিক ও ভাষ্যকারের কেউ কেউ দাবি করে আসছেন, অভিবাসনের কারণে ব্রিটেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসলামি আইন চালু হয়েছে। এ ধরনের বক্তব্যের কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগও উঠেছে।

এক সাক্ষাৎকারে ডানপন্থি রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত নেতানিয়াহু ফ্রান্সের নেতাদের অস্থিরতা মোকাবিলায় প্রস্তুতির ঘাটতির সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, চরমপন্থি মুসলিমদের কারণে দেশটিতে এই অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন বড় শহরের বিক্ষোভে দেশটির নানা জনগোষ্ঠীর মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।

ফরাসি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল আই২৪নিউজে প্রচারিত দোভাষীর অনুবাদ অনুযায়ী, নেতানিয়াহু বলেন, ‘তারা সময়মতো প্রস্তুতি নেয়নি, তারা কেবল হাল ছেড়ে দিয়েছে। তারা চরমপন্থি ইসলামের আগ্রাসনের কাছে নতি স্বীকার করেছে।’

ফ্রান্সকে প্রতিরোধ গড়ার পরামর্শ

ফ্রান্সকে কী পরামর্শ দেবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, তোষণনীতির পথে হাঁটা যাবে না এবং চরমপন্থিদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। তবে কীভাবে এই প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি।

নেতানিয়াহু আরও বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য, ‘আমরা যদি এখানে তাদের নির্মূল করতে না পারি, তাহলে প্যারিসে তাদের দেখতে পাবেন। আর ঠিক সেটাই ঘটছে।’

তবে নিজের এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী।

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ায় ইসরাইলের ক্ষোভ

গত বছর ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্স অন্যতম। এই সিদ্ধান্তে ইসরাইল ক্ষুব্ধ হয়েছিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ফ্রান্সের বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে অভিবাসনকে দায়ী করেছেন। ইউরোপের দেশগুলো এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ফ্রান্সে যা ঘটছে, তার সঙ্গে অভিবাসনের সম্পর্ক রয়েছে; স্কুল বা অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে নয়। তাঁর ভাষায়, ‘এটি অভিবাসনের বিষয়।’ তিনি আরও বলেন, ম্যাক্রোঁকে তিনি সীমান্ত বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলাকে অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে তুলে ধরেছিলেন ট্রাম্প। ওই সময় তিনি কখনো কখনো জাতিগত ভীতি উসকে দেওয়ার মতো বক্তব্য দেন এবং মিথ্যা দাবি ব্যবহার করেন বলে সমালোচনা রয়েছে।

এর আগে গত আগস্টে নেতানিয়াহু ব্রিটেনকে বিদ্রূপ করে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তাঁর ওই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে লন্ডন একে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করে।

/এএসএফ