যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত মুসলিম ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল করে পরবর্তী সময়ে দেশ থেকে বিতাড়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে। প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ (ডব্লিউএসজে)-এর বরাতে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমালিয়া থেকে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর মিনেসোটার এই কংগ্রেসম্যান কীভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের অভিবাসনসংক্রান্ত নথিপত্রও যাচাই করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ইলহান ওমরের কয়েকজন আত্মীয়সহ এক ডজনের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়েছে। মিনেসোটার একটি গ্র্যান্ড জুরির সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তাঁদের এসব সমন পাঠানো হয়।
ইলহান ওমরের বাসভবনে অভিযান
এর আগে গত সোমবার (১২ অক্টোবর) ফেডারেল এজেন্টরা কংগ্রেসম্যান ইলহান ওমরের বাসভবনে আকস্মিক অভিযান চালান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর কার্যালয় এ ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘নজিরবিহীন বাড়াবাড়ি’ বলে অভিহিত করেছে।
আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মার্কিন রাজনীতিতে উত্তেজনা বেড়েছে।
নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা
তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৫ সালে কেনিয়ার একটি শরণার্থী শিবির হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন ইলহান ওমর। ২০০০ সালে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব পান।
তদন্তকারীরা মূলত তাঁর বা তাঁর প্রয়াত বাবার অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে বয়স পরিবর্তন করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। অভিযোগের একটি অংশে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, নাগরিকত্বের আবেদনের সময় তাঁর বাবা ইলহান ওমরের বয়স ১৮ বছরের পরিবর্তে ১৭ বছর দেখিয়েছিলেন কি না।
এমনটি হয়ে থাকলে আলাদা আবেদনপ্রক্রিয়া ছাড়াই তিনি নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।
তদন্তকে ভিত্তিহীন বলছে ইলহান ওমরের কার্যালয়
ইলহান ওমরের কার্যালয় এই তদন্তকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাঁর আইনজীবী ও সমর্থকদের অভিযোগ, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি।
অন্যদিকে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই) বিভাগ জানিয়েছে, তদন্তটি একটি চলমান ফেডারেল প্রক্রিয়ার অংশ।
সোমালি বংশোদ্ভূত ইলহান ওমর তাঁর অভিবাসন ইতিহাস ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে দীর্ঘদিন ধরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর মিত্রদের সমালোচনা ও রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে নাগরিকত্ব বাতিল বা দেশ থেকে বিতাড়নের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য প্রতিবেদনে জানানো হয়নি। বর্তমানে তাঁর অভিবাসনসংক্রান্ত নথি ও নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়া নিয়ে তদন্ত চলছে।
সূত্র: আল জাজিরা
/এএসএফ