• ঢাকা
  • শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫০ এএম


তিন বছরের সাধনায় কালো রেশমে সোনা-রুপার কালিতে পুরো কোরআন লিখলেন আজারবাইজানের শিল্পী

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৩৪ এএম

তিন বছরের সাধনায় কালো রেশমে সোনা-রুপার কালিতে পুরো কোরআন লিখলেন আজারবাইজানের শিল্পী

পবিত্র কোরআনের বাণীকে শৈল্পিক রূপ দিতে যুগের পর যুগ ধরে মুসলিম ক্যালিগ্রাফাররা নানা মাধ্যম ব্যবহার করে আসছেন। এবার সেই ঐতিহ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন আজারবাইজানের প্রখ্যাত শিল্পী তুনজালে মেমেদজাদে। তিনি স্বচ্ছ কালো রেশমি কাপড়ের ওপর সোনা ও রুপার কালি দিয়ে সম্পূর্ণ কোরআন হাতে লিখেছেন। তাঁর এই অসাধারণ শিল্পকর্ম ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে শিল্পপ্রেমী ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

পবিত্র ধর্মগ্রন্থের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং শিল্পের প্রতি নিবিড় নিষ্ঠার অনন্য নিদর্শন হয়ে উঠেছে তাঁর এই সৃষ্টি।

তিন বছরের কঠোর পরিশ্রম

আমেরিকা বাংলার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যতিক্রমী প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে শিল্পী তুনজালে মেমেদজাদেকে টানা তিন বছর কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। সম্পূর্ণ কোরআন লিপিবদ্ধ করার জন্য তাঁর প্রয়োজন হয়েছে প্রায় ৫০ মিটার দীর্ঘ অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও উন্নত মানের কালো রেশমি কাপড়।

কাপড়ের ওপর পবিত্র কোরআনের প্রতিটি অক্ষর ও আয়াত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে তিনি নিজের সর্বোচ্চ মেধা, ধৈর্য ও দক্ষতা কাজে লাগিয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিটি লেখা যত্নসহকারে সম্পন্ন করাই ছিল এই কাজের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে অনুমোদিত সংস্করণ অনুসরণ

লেখার ক্ষেত্রে নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে তুনজালে তুরস্কের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত কোরআনের একটি সংস্করণকে মূল তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করেন। এর ফলে পবিত্র গ্রন্থটির প্রতিটি শব্দ যথাসম্ভব নির্ভুলভাবে লিপিবদ্ধ করা সম্ভব হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কালো রেশমের ওপর সোনা ও রুপার কালি দিয়ে লেখা আয়াতগুলো কাপড়ের গায়ে স্বতন্ত্র শৈল্পিক সৌন্দর্য তৈরি করেছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ক্যালিগ্রাফির নান্দনিকতার সমন্বয়ে শিল্পকর্মটি পেয়েছে বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

শিল্প ও ধর্মীয় অনুরাগের অনন্য মেলবন্ধন

তুনজালে মেমেদজাদের এই কাজ কেবল একটি শিল্পকর্ম নয়; পবিত্র কোরআনের প্রতি ভালোবাসা, অধ্যবসায় ও শিল্পসাধনারও একটি দৃষ্টান্ত। দীর্ঘ তিন বছর ধরে এমন একটি বিশাল কাজ সম্পন্ন করতে যে ধৈর্য ও মনোযোগ প্রয়োজন, তাঁর সৃষ্টিতে তারই প্রতিফলন দেখা যায়।

কালো রেশমের ওপর স্বর্ণালি ও রুপালি অক্ষরে সাজানো কোরআনের পৃষ্ঠাগুলো ধর্মীয় ঐতিহ্যকে ভিন্ন এক শৈল্পিক মাধ্যমে উপস্থাপন করেছে। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মধ্য দিয়ে পবিত্র কোরআনের বাণী ও মুসলিম ক্যালিগ্রাফির ঐতিহ্য নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে।

/এএসএফ