• ঢাকা
  • শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৯ এএম


নেশার টাকার জন্য মা-বাবাকে মারধরের অভিযোগ, রায়পুরায় তরুণের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৯:১১ পিএম

নরসিংদীতে মাদকের টাকার জন্য নির্যাতনের অভিযোগ, ছেলেকে হত্যার পর পলাতক বাবা

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় তারেক মিয়া (২৮) নামের এক তরুণের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, মাদকের টাকার জন্য ছেলের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তাকে হত্যা করেছেন বাবা অলিউর রহমান। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের মধ্যপাড়া এলাকার একটি বাড়ির পেছনে গোয়ালঘর থেকে তারেকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় ছিলেন। সেখানে মাদক সেবনের অভিযোগে দেশটির পুলিশ তাঁকে আটক করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। প্রায় আড়াই বছর আগে দেশে ফেরার পরও তিনি মাদক সেবন থেকে দূরে থাকতে পারেননি। স্থানীয় কয়েকজন তরুণের সঙ্গে আবারও মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, নেশার টাকা জোগাড় করতে তারেক প্রায়ই মা-বাবাকে মারধর করতেন। এতে পরিবারের সদস্যরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন।

বাড়িতে ভাঙচুরের পর হত্যার অভিযোগ

প্রতিবেশীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতে নেশার টাকা চেয়ে বাড়িতে ভাঙচুর করেন তারেক। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর বাবা অলিউর রহমান ছেলের হাত-পা বেঁধে বাড়ির পেছনের গোয়ালঘরে নিয়ে যান। সেখানে চাপাতি দিয়ে তারেকের মাথা, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুর রশীদ বলেন, তারেক মাদকের টাকার জন্য পরিবারের সদস্যদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালাতেন। এসব সহ্য করতে না পেরে বাবা অলিউর রহমান নিজের ছেলেকে হত্যা করেছেন বলে তিনি জানান।

তবে ঘটনার বিষয়ে পুলিশের তদন্ত এখনো চলমান। বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থল থেকে চাপাতি উদ্ধার

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি চাপাতিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তফা কামাল জানান, তারেকের মাথা ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের কোপের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থল থেকে একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর অভিযুক্ত বাবা অলিউর রহমান পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

/এএসএফ