• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০০ এএম


অমুসলিমদের ভয় কাটাতে ব্রিটেনে শতাধিক মসজিদের দরজা উন্মুক্ত

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮:৪৩ পিএম

ব্রিটেনে মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ ও মসজিদে হামলার ঘটনা বাড়তে থাকায় ইসলাম ও ব্রিটিশ মুসলিমদের সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ করে দিতে সাধারণ মানুষের জন্য শতাধিক মসজিদের দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে। ‘ভিজিট মাই মসজিদ’ কর্মসূচির আওতায় লন্ডন, বার্মিংহাম, শেফিল্ড, ম্যানচেস্টার, গ্লাসগো, সাউথেন্ড ও কার্ডিফসহ বিভিন্ন শহরের মসজিদে এ আয়োজন করা হয়।মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের আয়োজনে ‘ভিজিট মাই মসজিদ’ কর্মসূচিটি এবার ১১ বছরে পড়েছে। কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন মসজিদে দর্শনার্থীদের জন্য চা, বিভিন্ন সংস্কৃতির খাবার, আলোচনা, আন্তধর্মীয় কার্যক্রম, শিল্প প্রদর্শনী এবং মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের মতে, মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ বাড়তে থাকায় এবারের উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।উত্তর লন্ডনের লন্ডন ইসলামিক কালচারাল সোসাইটিও এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। গত তিন বছরে মসজিদটি একাধিক হামলা ও হয়রানির মুখে পড়েছে। একটি ঘটনায় এক নারী মুসল্লিদের উদ্দেশে তাদের সন্তানদের হত্যার কথা বলেন। অন্য একটি ঘটনায় ভবনের গ্যাসের পাইপ খুলে এমনভাবে পরিবর্তন করা হয়, যাতে গ্যাস জমে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসব ঘটনার পরও মসজিদটি আরও বেশি মানুষের জন্য নিজেদের দরজা উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের মহাসচিব ড. ওয়াজিদ আখতার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ মুসলিম ও তাদের প্রতিবেশীদের সম্পর্কে অনেক মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম এবং অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে তথ্য পাচ্ছেন। তার মতে, এর ফলে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।ইস্ট লন্ডন মসজিদ ও লন্ডন মুসলিম সেন্টারের মরিয়ম সেন্টারের প্রধান সুফিয়া আলম বলেন, বন্ধুত্ব ও সংহতি যে ঘৃণার চেয়ে শক্তিশালী—এটি তুলে ধরতেই তাদের মসজিদ এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। তার মতে, মানুষ যখন মসজিদে এসে মুসলিম পরিবার, স্বেচ্ছাসেবী ও মুসল্লিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পান, তখন অনেক প্রচলিত ধারণা ও ভয় ধীরে ধীরে দূর হতে শুরু করে।মসজিদের নিরাপত্তা নিয়েও যুক্তরাজ্যের মুসলিমদের উদ্বেগ বাড়ছে। ব্রিটিশ মুসলিম ট্রাস্টের হিসাবে, দেশটিতে প্রতি পাঁচ দিনে একটি মসজিদ হামলার শিকার হচ্ছে। এসব ঘটনার মধ্যে ভয় দেখানো, সহিংসতা, সম্পত্তির ক্ষতি, হয়রানি, মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য, অনলাইনে নির্যাতন ও ভাঙচুরের মতো ঘটনা রয়েছে।গ্রেটার ম্যানচেস্টারের চেডল মসজিদের ফারুক রফিক ‘ভিজিট মাই মসজিদ’ কর্মসূচিকে এমন একটি জায়গা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে মানুষ ভুল বোঝাবুঝির শিকার একটি ধর্ম ও তার অনুসারীদের সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পান। ফিন্সবারি পার্ক মসজিদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কোজবারও মুসলিমবিদ্বেষ মোকাবিলায় উন্মুক্ততা, সংলাপ ও সংহতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।লন্ডন ইসলামিক কালচারাল সোসাইটির মসজিদটি পরিচালনা করেন বিবি খান। তিনি যুক্তরাজ্যের কোনো মসজিদের সভাপতি হওয়া প্রথম নারী। তার মতে, গণমাধ্যমে অনেক সময় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের বাস্তব চিত্র যথাযথভাবে উঠে আসে না। তাই নিজেদের বিশ্বাস, কার্যক্রম এবং মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সরাসরি কথা বলার সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।ওই মসজিদের আয়োজনে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ অংশ নেন। সেখানে প্রায় দুই ডজন মানুষ গোলটেবিল আলোচনায় বসেন। ইসলাম পালন করেন না—এমন কয়েকজনও মসজিদ ও ইসলাম সম্পর্কে আরও জানার আগ্রহ থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। আয়োজনের সময় মসজিদে পুলিশের উপস্থিতিও ছিল।অনুষ্ঠানে ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। হ্যারিঙ্গে মুসলিম ও ইহুদি—দুই সম্প্রদায়ের বড় উপস্থিতি রয়েছে। বিবি খান বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং একসঙ্গে বসবাসের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ইহুদি প্রতিনিধি জুডিথ প্রিন্সলিও তার উপাসনালয়ের কাছে ইহুদিবিদ্বেষী গ্রাফিতি এবং উপাসকদের ভয় পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানান।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা তথ্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিবি খান। তার মতে, এ ধরনের গুজব ও ষড়যন্ত্রতত্ত্ব মানুষের মধ্যে আরও ভয় ও সন্দেহ তৈরি করতে পারে। এ কারণে মুসলিম ও অন্য ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

/বিএসএস