মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের মধ্যেও ইরান শত শত কোটি ডলার আয় করেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজাই। মার্কিন নৌ অবরোধ পাশ কাটিয়ে দেশটি বিপুল পরিমাণ তেল বিক্রি করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিংকে (আইআরআইবি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন রেজাই।
তিনি দাবি করেন, গত এক থেকে দুই মাসে ইরান প্রায় ৭০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিক্রি করেছে। বর্তমানে দেশটি প্রতিদিন যে পরিমাণ তেল উৎপাদন করছে, প্রায় সমপরিমাণ তেল বিক্রি করতেও সক্ষম হচ্ছে বলে জানান তিনি।
রেজাই সতর্ক করে বলেন, কোনো দেশ যদি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ অংশ নেয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে প্রয়োজন হলে হামলার পথেও যাওয়ার হুমকি দেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেজাই বলেন, ইরান কখনো বিনা উসকানিতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু করলে ইরান ইরানের আশপাশের অঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকার কিছু তেল ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারে।
তিনি অভিযোগ করেন, অস্ত্র বিক্রির স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আঞ্চলিক সংঘাত উসকে দিচ্ছে। রেজাই বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না। তবে কোনো পরিস্থিতিতেই দেশটি আত্মসমর্পণ করবে না।
হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গেও কথা বলেন রেজাই। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের দায়িত্ব পালন করলেই গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ আবার খুলে দেওয়া হবে।
পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে আলোচিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়েও মন্তব্য করেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করছে।
রেজাই আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পর ইরান তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিরও সমালোচনা করেন তিনি।
পারমাণবিক ইস্যুতে রেজাই অভিযোগ করেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তার দাবি, আন্তর্জাতিক চুক্তি ও তদারকি ব্যবস্থা যদি কোনো দেশকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
/এসএন