• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম


কোরআনের আয়াত উদ্ধৃতির জেরে মসজিদ বন্ধ করে দিল ফ্রান্স!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৯ আগস্ট ২০২৬ ৮:০২ পিএম

ইসলামি উপাসনা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ফ্রান্সের একটি মসজিদ ছয় মাসের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে দেশটির একটি আদালত। প্যারিসের কাছে অলনে-সু-বোয়া শঁতেলুপ মসজিদের বিরুদ্ধে দেওয়া বন্ধের আদেশ স্থগিতের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে মঁত্রেয়িল প্রশাসনিক আদালত।

শনিবার (৮ আগস্ট) মিডল ইস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, শুক্রবার দেওয়া রায়ে আদালত জানায়, জুলাই মাসে জারি করা আদেশ অনুযায়ী মসজিদটি জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

মসজিদটির পক্ষে লড়াই করা মানবাধিকার আইনজীবী রফিক শেক্কাত এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ফ্রান্সে ইমামরা ধর্মীয় বক্তব্যে কোরআনের আয়াত বা ইসলামি গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার স্বাধীনতা রাখেন কি না।

শেক্কাত বলেন, কর্তৃপক্ষ তাদের অভিযোগের একটি অংশ মসজিদের ইমামদের কোরআনের সাতটি আয়াত এবং ইসলামি ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে তৈরি করেছে।

তিনি জানান, এসব উদ্ধৃতির মধ্যে ত্রয়োদশ শতাব্দীর সিরীয় পণ্ডিত ইমাম আল-নাওয়াভির রচনাও রয়েছে। মুসলিম বিশ্বে ইমাম আল-নাওয়াভিকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি চিন্তাবিদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

আইনজীবী শেক্কাত বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ফ্রান্সের ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি রক্ষার জন্য তারা দেশটির সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত স্টেট কাউন্সিলে আপিল করবেন।

এদিকে, ফরাসি কর্তৃপক্ষ এমন কিছু ধর্মীয় বক্তব্যেরও বিরোধিতা করেছে, যেখানে ‘অবিশ্বাসীদের জন্য জাহান্নাম’ এবং ‘কবরের শাস্তি’র মতো বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সমালোচকদের দাবি, অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও এ ধরনের ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হলেও মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলোকে আলাদাভাবে লক্ষ্য করা হচ্ছে।

আদালত জানিয়েছে, সেন-সাঁ-দেনির প্রিফেক্ট জুলিয়েন শার্ল মসজিদ বন্ধের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে উপাসনার স্বাধীনতা বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কোনো গুরুতর ও স্পষ্ট অবৈধ লঙ্ঘন করেননি।

রায়ের পর হতাশা প্রকাশ করে শেক্কাত বলেন, সিদ্ধান্তটির কিছু অংশ ধর্মীয় স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্টেট কাউন্সিলে বিষয়টি আরও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হবে।

ফ্রান্সে মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাষ্ট্রীয় নজরদারি ও চাপ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ১৮ মাসে ২২টি মসজিদ বন্ধ করেছিল বলে জানা যায়। এসব পদক্ষেপে অনেক সময় গোপন গোয়েন্দা নথি ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া ফরাসি সরকার ‘কালেক্টিভ এগেইনস্ট ইসলামোফোবিয়া ইন ফ্রান্স’ এবং ‘বারাকাসিটি’সহ কয়েকটি মুসলিম সংগঠন বিলুপ্ত করেছে। সমালোচকদের শঙ্কা, নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে দেশটিতে মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা সীমিত করা হচ্ছে।

/এএসএফ