ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি হামলায় নতুন উত্তেজনা, প্রাণহানির দাবি দুই পক্ষের
জর্ডানের আল-আজরাকে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ইরানের বিভিন্ন স্থানে আইআরজিসির কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। দুই পক্ষের দাবির স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।
আইআরজিসির বিবৃতি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোরে চালানো হামলায় আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি তিনটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস এবং আরও তিনটি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সির বরাতে বলা হয়, কেশম দ্বীপের আবাসিক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাব হিসেবেই এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। আইআরজিসির দাবি, ওই মার্কিন হামলায় একই পরিবারের বাবা, মা ও দুই বছরের একটি শিশু নিহত এবং আরও দুটি শিশু আহত হয়েছে। এছাড়া জানজান প্রদেশে আইআরজিসির তিন সদস্য নিহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।
আইআরজিসি আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ইসলামি ভূখণ্ড থেকে পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, বুধবার রাতে তারা ইরানের বিভিন্ন এলাকায় আইআরজিসির কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, এসব হামলায় বুশেহর, জাম ও খোরমোজ শহর লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, হামলায় বেসামরিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র উত্তর কুয়েতে একটি চীনা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ভবনে আঘাত হানলে একজন কর্মী নিহত হন এবং ভবনটির ব্যাপক ক্ষতি হয়।
সংঘাতের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
এদিকে চলমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসলামাবাদ উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছে।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত সামরিক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির তথ্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর নিজস্ব দাবি। এসব দাবির স্বাধীন বা নিরপেক্ষ যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি।
/এএসএফ