• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩০ এএম


হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে উত্তপ্ত নেপাল, শান্ত থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩১ জুলাই ২০২৬ ১০:০৯ এএম

নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তিনি জনগণকে ধৈর্য, সংযম ও সম্প্রীতি বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, বর্তমান অস্থিরতা কাটিয়ে জাতীয় ঐক্য পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শাহ বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে তিনি দেশের নাগরিক, ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যমের প্রতি শান্তি, ভ্রাতৃত্ব ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, সংঘর্ষের ঘটনায় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করা হবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার ভারত সীমান্তসংলগ্ন সুনসারি জেলার একটি গ্রামে একটি হিন্দু ধর্মীয় শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূচনা হয়। শোভাযাত্রায় উচ্চ শব্দে গান বাজানো এবং ধর্মীয় পতাকা বহনকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের কিছু মানুষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি ছুড়লে দুইজন নিহত হন। পরে বৃহস্পতিবার পাশের সিরাহা জেলায় কারফিউ চলাকালে বিক্ষোভের সময় আরও একজনের মৃত্যু হয়। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়ায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সুনসারি ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন। নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পদ রক্ষা করা এবং সর্বনিম্ন বলপ্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তারা কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী শাহ বলেন, “দেশে শান্তি, সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এখন সবার দায়িত্ব। কোনো ধরনের গুজব বা উসকানিতে বিভ্রান্ত না হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করুন।” তিনি আরও বলেন, সরকার ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখবে এবং তদন্তে কোনো ধরনের পক্ষপাত করা হবে না।

নেপালের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ হিন্দু ধর্মাবলম্বী। তবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের তরাই অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। অতীতে স্থানীয় পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার ঘটনা ঘটলেও সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদেরও সক্রিয় ভূমিকা রাখা জরুরি।

/এএসএফ