• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১৪ এএম


মার্কিন সেনাদের মোবাইল ভিডিও থেকেই হামলার নিশানা ঠিক করছে ইরান: সেন্টকম প্রধানের সতর্কবার্তা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩০ জুলাই ২০২৬ ৫:৫৬ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ছবি ও ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ায় তা ইরানকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করছে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার।

একাধিক অবগত সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) লেখা এক চিঠিতে অ্যাডমিরাল কুপার এই উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন। রয়টার্সের হাতে ওই চিঠির একটি অনুলিপিও এসেছে। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিকদের প্রকাশিত পোস্টে সেনাদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা প্রতিক্রিয়া, ছবি ও ভিডিও দেখে ইরান খুব দ্রুত বুঝে ফেলছে তাদের হামলা কতটা সফল হয়েছে।

চিঠিতে তিনি সতর্ক করে বলেন, ওপেন সোর্স তথ্য প্রকাশের ফলে শুধু মার্কিন সেনাই নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক মানুষের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে তিনি সেনাসদস্যদের অপারেশনাল নিরাপত্তা আরও কঠোরভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানান। তবে এ বিষয়ে কী ধরনের নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা উল্লেখ করা হয়নি।

দুটি সূত্র জানিয়েছে, জর্ডানে অবস্থানরত কিছু মার্কিন সেনাকে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মোবাইল ফোন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। কারণ, জর্ডান ইরানের হামলার অন্যতম সম্ভাব্য লক্ষ্য। আরেকটি সূত্র জানায়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একই ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে, যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমোথি হকিন্স বলেন, অপারেশনাল নিরাপত্তার গুরুত্ব বোঝাতেই সেনাদের উদ্দেশে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, অ্যাডমিরাল কুপার নিয়মিতই এ ধরনের সতর্কতামূলক বার্তা পাঠিয়ে থাকেন।

চিঠিতে চলতি মাসে প্রকাশিত একটি ভিডিওর উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ১৭ জুলাই জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় মার্কিন সেনারা বাংকারে আশ্রয় নিচ্ছেন। ভিডিওটি এক সেনাসদস্যের মেটা স্মার্ট গ্লাস দিয়ে ধারণ করে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা হয়েছিল।

অ্যাডমিরাল কুপারের মতে, এ ধরনের ভিডিও না থাকলে ইরানের পক্ষে হামলার সাফল্য বা ব্যর্থতা মূল্যায়ন করা অনেক কঠিন হতো। কারণ যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনী ইলেকট্রনিক জ্যামিংসহ বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে থাকে।

তিনি আরও লেখেন, ইরান জানে তারা অস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, কিন্তু তা লক্ষ্যবস্তুর ৫০ মিটার দূরে পড়েছে, খালি রানওয়েতে আঘাত করেছে নাকি জনাকীর্ণ স্থাপনায় লেগেছে—এ তথ্য তারা নিশ্চিতভাবে জানে না। অথচ সংবাদমাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত প্রকাশিত হলে তা কার্যত ইরানের জন্য বিনা খরচে যুদ্ধের মূল্যায়ন করে দেওয়ার মতো হয়ে যায়। এতে দ্রুত আরও বড় ধরনের দ্বিতীয় দফার হামলা চালানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানে অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৬০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এ হতাহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি তিনজন মার্কিন নাগরিকের মধ্যে মাত্র একজন এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন।

এদিকে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা যুদ্ধ-সংক্রান্ত আরও তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। তারা রাডার টাওয়ার, ব্যারাক, বিমান হ্যাঙ্গারসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন। পাশাপাশি যুদ্ধের প্রথম দিন ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন হামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশেরও দাবি তুলেছেন। সিএনএনের এক তদন্তে বলা হয়েছে, ওই হামলায় ১২০ শিক্ষার্থী ও ২৬ শিক্ষকসহ মোট ১৫৬ জন নিহত হন।

মোবাইল ফোন জব্দের সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের খবরে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের পরিবারের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদেশে মোতায়েন সেনাদের মোবাইল ব্যবহারের নিয়ম বাহিনীভেদে ভিন্ন হতে পারে। কোথাও নির্দিষ্ট স্থানে ফোন তালাবদ্ধ করে রাখতে হয়, আবার সংবেদনশীল মিশনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধও করা হয়।

মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন যে ফিটনেস অ্যাপসহ কিছু মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারীর অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করতে পারে, যা প্রতিপক্ষের কাজে লাগতে পারে। গত মে মাসে রয়টার্সও জানিয়েছিল, স্মার্টফোন থেকে সংগৃহীত বাণিজ্যিক অবস্থান তথ্য ব্যবহার করে মার্কিন সেনাদের নজরদারি ও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার চেষ্টা হয়েছে।

অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে পেন্টাগন যুদ্ধ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করছে। ইরানের অনেক হামলার দাবির বিষয়ে তারা মন্তব্য করছে না এবং আহতদের বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ থেকে বিরত থাকছে।

সূত্র: বার্তা বাজার

/এএসএফ