• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৫ এএম


গ্রে/প্তারদের মুক্তি না দিলে আবার রাজপথে নামার হুঁশি/য়ারি সিজেপির

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৯ জুলাই ২০২৬ ৯:৩১ পিএম

ভারতে তরুণদের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আবারও আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, বিক্ষোভ স্থগিত করার পর যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের সবাইকে দ্রুত মুক্তি না দিলে তারা পুনরায় রাজপথে আন্দোলন শুরু করবেন।

কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা টানা আন্দোলনের মুখে সম্প্রতি দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। নরেন্দ্র মোদির ১২ বছরের শাসনামলে এর আগে মাত্র একজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন। ফলে এ ঘটনাকে সরকারের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠারের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় লাখ লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেয় সিজেপি। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছিল আন্দোলনের প্রধান দাবি। হাজারো শিক্ষার্থীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এতে অংশ নেন। পরে দিল্লির বাইরে দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘোষণা আসার পর সিজেপি তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে। তবে দলটির অভিযোগ, আন্দোলন স্থগিতের পর দেশজুড়ে একশোর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া অনেকের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলাও করা হয়েছে।

সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, মোদি সরকার আশ্বাস দিয়েছিল, বর্তমান বা ভবিষ্যতে কোনো বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। ওই আশ্বাসের ভিত্তিতেই গত শনিবার দেশব্যাপী আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়।

সোমবার সরকারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে সিজেপি জানায়, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে শিক্ষার্থীদের আটকে রাখার খবর পাওয়া গেছে।

দলটির আরেক মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, সরকার যদি চুক্তির প্রতি সম্মান না দেখায় এবং আটক বা গ্রেপ্তার হওয়া সবাইকে মুক্তি না দেয়, তাহলে তারা আবারও আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।

এদিকে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইএসএ) সদস্যরা বিহারের পুলিশ প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তারাও গ্রেপ্তারদের মুক্তি না দেওয়া হলে নতুন করে আন্দোলন শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

সোমবার বিহার পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার আগে পর্যন্ত দায়ের হওয়া সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে। অন্যদিকে, আইএসএ জানিয়েছে, আসাম সরকারও মামলা প্রত্যাহার করেছে এবং গ্রেপ্তারদের মুক্তি দিয়েছে।

তবে পশ্চিমবঙ্গে পরিস্থিতি ভিন্ন। শুক্রবারের সমাবেশে আপত্তিকর পোস্টার প্রদর্শনের অভিযোগে সোমবার নতুন মামলা করেছে রাজ্য সরকার। ওই সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। এ পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই মুসলিম।

এছাড়া শুক্রবারের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কার্টুনচিত্র প্রদর্শনের অভিযোগে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযোগ দায়ের করেছে। আপত্তিকর ছবি পোস্ট করার অভিযোগে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিক্ষোভকারীদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক রিল ও মিমে ভরে যায় ইনস্টাগ্রাম। অনেক সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ এবং সাধারণ ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন, সরকারবিরোধী সমালোচনামূলক পোস্ট দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

এদিকে দিল্লি পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোদিকে নিয়ে আপত্তিকর ভাষায় করা পোস্টের ওপর নজরদারি শুরু করেছে। জানা গেছে, তিনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মকে এ ধরনের পোস্ট অপসারণের অনুরোধও জানানো হয়েছে।

সিজেপি গত সোমবার জানিয়েছে, ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত বিক্ষোভকারীদের আইনি সহায়তা দিতে একটি আইনি তহবিল গঠন করা হয়েছে।

গত মে মাসে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ আন্দোলনের সূচনা হয়। পরে ২০ জুলাই বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের কঠোর দমন-পীড়নের পর আন্দোলন দেশব্যাপী গণআন্দোলনে রূপ নেয়।

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের সমালোচনা করে বলেন, সংবিধান শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার দিয়েছে।

/এসএন