• ঢাকা
  • বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম


তিন বছর পর ফিরছে ফিলিস্তিনি ফুটবল, ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন শুরুর প্রস্তুতি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৫ জুলাই ২০২৬ ১০:০১ পিএম

তিন বছর পর ফিরছে ফিলিস্তিনি ফুটবল, ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন শুরুর প্রস্তুতি

দীর্ঘ প্রায় তিন বছর পর আবারও মাঠে ফিরতে যাচ্ছে ফিলিস্তিনি ফুটবল। অধিকৃত পশ্চিম তীরের আল-বিরেহ শহরের ‘থাকাফি আল-বিরেহ স্পোর্টস ক্লাব’-এর মাঠে শুরু হয়েছে খেলোয়াড়দের অনুশীলন। হারিয়ে যাওয়া ছন্দ ফিরে পেতে কোচদের তত্ত্বাবধানে পাসিং, ফিটনেস ও কৌশলগত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ফুটবলাররা।

ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম, পশ্চিম তীর, গাজা ভূখণ্ড এবং প্রবাসী ফিলিস্তিনি কমিউনিটির মধ্যে আবারও ফুটবল কার্যক্রম শুরু হবে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সব ধরনের অফিসিয়াল ফুটবল প্রতিযোগিতা স্থগিত ছিল।

তবে প্রতিযোগিতা পুনরায় শুরু হলেও ফিলিস্তিনি ফুটবলের সামনে রয়েছে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। পশ্চিম তীরের ক্লাবগুলো এখনও চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ ও আর্থিক সংকটে ভুগছে। আর গাজা ভূখণ্ডে যুদ্ধের সময় বহু স্টেডিয়াম ও ক্রীড়া অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছেন অসংখ্য খেলোয়াড়, কোচ ও ক্রীড়া সংগঠক।

থাকাফি আল-বিরেহ ক্লাবের কোচ ওমর বারগুতি বলেন, প্রায় তিন বছর প্রতিযোগিতা বন্ধ থাকায় খেলোয়াড়দের উন্নয়ন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক চেকপয়েন্ট ও চলাচল সীমাবদ্ধতার কারণে দলগুলোর অনুশীলন ও যাতায়াতও কঠিন হয়ে পড়েছিল।

তিনি বলেন, যুদ্ধের আগে ফিলিস্তিনি ফুটবল যে অবস্থানে পৌঁছেছিল, সেখানে আবার ফিরতে সময় লাগবে। দীর্ঘ সময় অফিসিয়াল ম্যাচ না থাকায় অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময় হারিয়ে গেছে। একই সঙ্গে জুনিয়র ফুটবলাররাও বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বছরগুলো থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

বারগুতি জানান, সেপ্টেম্বরে মূল প্রতিযোগিতা শুরুর আগে বিভিন্ন গভর্নরশিপে পরীক্ষামূলক টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে পিএফএ। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী বছর পূর্ণাঙ্গ মৌসুম শুরু করার আশা করছেন তারা।

থাকাফি আল-বিরেহ ক্লাবের স্পোর্টস সুপারভাইজার মোহাম্মদ সদর বলেন, দীর্ঘদিন খেলা বন্ধ থাকায় ক্লাবগুলোর আয়ের উৎস প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। চেকপয়েন্টের কারণে যাতায়াত ব্যয় এবং প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের খরচও বেড়েছে। ফলে নতুন খেলোয়াড় দলে ভেড়ানোর পরিবর্তে বর্তমান ফুটবলারদের শারীরিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতেই জোর দেওয়া হচ্ছে।

ফিলিস্তিনের যুব জাতীয় দল ও থাকাফি আল-বিরেহ ক্লাবের খেলোয়াড় বাসেল হারবাউই বলেন, কয়েক বছর ধরে অফিসিয়াল টুর্নামেন্ট না থাকায় খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিদেশে পেশাদার ফুটবলার হিসেবে খেলার স্বপ্নও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে প্রতিযোগিতা ফের শুরু হলে জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়ে বিদেশে খেলার সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদী।

পিএফএর মুখপাত্র দিমা ইউসেফ জানান, প্রথম ধাপে পদোন্নতি বা অবনমন ছাড়া একটি ‘অ্যাক্টিভেশন পর্ব’ পরিচালিত হবে। এরপর ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ প্রতিযোগিতা চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে।

তিনি বলেন, গত তিন বছরে ফিলিস্তিনি ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্রীড়া সম্প্রদায়ের এক হাজারের বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন, হাজার হাজার মানুষ আহত বা নিখোঁজ রয়েছেন এবং অধিকাংশ ক্রীড়া অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। আগামী বছর প্রফেশনাল লিগের অষ্টম আসর শুরুর আগে ক্রীড়া খাত পুনর্গঠন, ক্লাবগুলোকে সহায়তা এবং স্টেডিয়াম সংস্কার জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির পরও বোমাবর্ষণ, অবরোধ এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধার মাধ্যমে চুক্তি লঙ্ঘন অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু অ্যাজেন্সি

/এএসএফ