যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান টানা দ্বিতীয় রাতেও একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েছে। তবে পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেও উত্তেজনা কমিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এখনো একটি সমাধানে পৌঁছাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে কাতার, পাকিস্তান এবং অন্যান্য আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী দেশ উভয় পক্ষকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরানোর চেষ্টা করছে। মধ্যস্থতায় জড়িত একটি আঞ্চলিক সূত্র অ্যাক্সিওসকে জানায়, উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে প্রথমে দুই পক্ষকে একমত করানো এবং এরপর কারিগরি পর্যায়ের আলোচনার নতুন তারিখ নির্ধারণে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে।
হোয়াইট হাউস থেকে আলজাজিরাকে দেওয়া এক বক্তব্যে সাংবাদিক কিম্বার্লি হ্যালকেট জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এখনো ইরানের সঙ্গে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি বহাল রেখেছেন।
মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর দুটি সূত্র এবং এক মার্কিন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, কাতার, পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে পরমাণু চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা পুনরায় শুরু করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
গত বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার ঘোষণা দিয়ে ইরানে দুই দফা বিমান হামলার নির্দেশ দেন। তবে একই সময়ে তার মূল লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং ইরানের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এড়িয়ে যাওয়া।
মধ্যস্থতাকারীদের ধারণা, সাম্প্রতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও পূর্ববর্তী আলোচনায় দুই পক্ষ একটি সম্ভাব্য পরমাণু চুক্তির দিকে অগ্রসর হয়েছিল। তাই তারা বিদ্যমান সমঝোতা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আগেই তা রক্ষার চেষ্টা করছেন।
একটি আঞ্চলিক সূত্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক ইরানি হামলাগুলো ইরানের অভ্যন্তরের এমন কিছু গোষ্ঠীর মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে, যারা সম্ভাব্য সমঝোতার বিরোধিতা করে এবং আলোচনার প্রক্রিয়া ভণ্ডুল করতে চায়।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, পরিস্থিতি শান্ত করতে বুধবার কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর ও সৌদি আরবের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে কথা বলেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, তিনি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলা এবং তাদের বক্তব্য বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
দুই দিন ধরে পাল্টাপাল্টি হামলার পর বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত ছিল। দক্ষিণ ইরানে বিস্ফোরণের কিছু খবর প্রকাশ পেলেও মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই দিন যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো সামরিক হামলা চালায়নি।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এটি উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার ইতিবাচক ফল। এদিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান পরিস্থিতি ও পরবর্তী করণীয় নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠক শেষে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন এখনো একটি সমাধানে পৌঁছাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পরমাণু চুক্তির লক্ষ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নিরীহ বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের হামলা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। তার মতে, এসব কর্মকাণ্ড সমঝোতা বাস্তবায়নের পথে একটি অগ্রহণযোগ্য বাধা।
সূত্র: অ্যাক্সিওস ও আল জাজিরা
/এএসএফ