• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম


মার্কিন-ইরান চুক্তিতে কোণঠাসা নেতানিয়াহু, বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৬ জুন ২০২৬ ১২:৪৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা লেগেছে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবস্থানে।

দীর্ঘদিন ধরে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন নেতানিয়াহু। তার বিশ্বাস ছিল, ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণে তিনি কার্যকর প্রভাব বিস্তার করে ইসরাইলের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থ নিশ্চিত করতে পারবেন। তবে সাম্প্রতিক মার্কিন-ইরান সমঝোতা সেই ধারণায় বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের ইরাননীতি নির্ধারণে নেতানিয়াহুর প্রভাব আগের মতো কার্যকর নেই। বরং তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে হচ্ছে।

মার্কিন কূটনৈতিক মহলে একসময় নেতানিয়াহুকে ‘আমেরিকান হুইস্পারার’ বলা হতো। কারণ তিনি এমন একজন নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, যিনি সরাসরি ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণী মহলে প্রভাব ফেলতে সক্ষম ছিলেন। অন্য কোনো ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী তার মতো এতবার মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দেননি কিংবা মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে এত দীর্ঘ সময় প্রভাব ধরে রাখতে পারেননি।

তবে বিশ্লেষকদের ভাষ্য, ফেব্রুয়ারিতে ইরানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সামরিক উত্তেজনার পর ওয়াশিংটন যে সমঝোতার পথে হাঁটছে, তা নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের কৌশলগত অবস্থানকে দুর্বল করে দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন একটি সমঝোতার দিকে এগোচ্ছেন, যেখানে ইসরাইলের আপত্তিকে ক্রমেই বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে নেতানিয়াহুর সামনে এখন এক কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।

সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ডেনিস রসের মতে, নেতানিয়াহু বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরেও চাপের মুখে রয়েছেন। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অবসান চায়, অন্যদিকে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক সমর্থকরা, বিশেষ করে লেবানন ইস্যুতে, কোনো ধরনের ছাড় দিতে রাজি নন।

তার মতে, এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু এমন এক দোটানায় পড়েছেন যেখানে সেনা প্রত্যাহার করলে রাজনৈতিক ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে, আবার সামরিক অভিযান জোরদার করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, সাম্প্রতিক এই চুক্তি শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কেই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

/এএসএফ